মহসিন মোল্যা,মাগুরা।।
মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে ব্যাপক জনবল সংকট। তিন জন অফিস সহকারীর স্থলে রয়েছেন মাত্র একজন অফিস সহকারী, দুইজন অফিস সহায়কের স্থলে একজনও নাই। এ সুযোগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের ফয়দা লুটছেন একই অফিসে একটানা ৭ বছর যাবৎ থাকা একমাত্র অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান।
জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলায় বর্তমানে ৮৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্ষুদ্র ও বড় মেরামত কাজ, স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স , প্রাক প্রাথমিক ক্লাস সজ্জিত ,ওয়াশব্লক রক্ষনাবেক্ষণ, বই বিতরণ,শোক দিবস পালন,বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান এবং আনুষঙ্গিকসহ আট ধরনের বরাদ্ধ দেওয়া হয়। উক্ত টাকা কোন টেন্ডার বা কটেশন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের নিয়ে কমটি গঠনের মাধ্যমে কাজ করে থাকেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষকরা জানান, আমরা শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মোঃ আশরাফুজ্জামান এর কছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। বেতন বিল, কন্টিজেন্সি বিল, বকেয়া বিল, পিটিআই ট্রেনিং প্রাপ্তদের স্কেল লাগান, শ্রান্তি বিনোদন বিল, পেনশান ফাইল, বদলি অর্ডার, ক্ষুদ্র ও বড় মেরামত কাজ, স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স, প্রাক প্রাথমিক ক্লাস সজ্জিত ,ওয়াশব্লক রক্ষনাবেক্ষণ, বই বিতরণ, শোক দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান এবং আনুষঙ্গিক বিল এর টাকার ব্যাপারে শিক্ষা অফিসে কাজ করতে গেলেই অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান নিজের কথা বলে ঘুষের টাকা নেয়, কখনও অডিট এর কথা বলে টাকা নেয়, ফাইলে ভুল না থাকলেও বলে ফাইলে ভুল আছে টাকা না দিলে হবে না, আবার বলে টিও এবং এটিওদের টাকা না দিলে এ ফাইল পাশ হবে না, আবার কখনও বলে মাগুরা ডিপিইও স্যারের টাকা দিতে হবে। তার কথা মতো ঘুষের টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল নিয়ে ঘুরতে হয়।
অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান এর দুর্নীতি ,ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের বিষয় নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোশাররফ হোসেন এর সাথে কথা বলতে গেলে, তিনি নিজের ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন,একা থাকার সুযোগে ফায়দা লুটতে পারে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান বলেন, অফিসে জনবল সংকটের কারণে ৫ টি পদের কাজ আমি একাই করছি।অমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহল এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।