বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল জানাল ‘মেশিন লার্নিং’ অ্যালগরিদম

ক্র্রীড়া ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ন

ফুটবল বিশ্বকাপে এক সময় ভবিষ্যদ্বাণীর সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’—আট পায়ের সেই অদ্ভুত কিন্তু জনপ্রিয় ভবিষ্যদ্বক্তা। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে ভবিষ্যদ্বাণীর ধরনও।

এখন আর কোনো প্রাণীর ওপর নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের বিশ্লেষণে নির্ধারণ করা হচ্ছে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন।

এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এমনই একটি পূর্বাভাস দিয়েছেন ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক আচিম জেইলেস। মেশিন লার্নিং মডেল এবং বিশাল পরিসরের সিমুলেশনের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে কোন দল শিরোপার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকতে পারে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে ২০২৬ আসর। সেই টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি এই পূর্বাভাসে জেইলেসের অ্যালগরিদম আধুনিক তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকে একত্র করেছে।

তিনি বলেন, তার অ্যালগরিদম মূলত দুটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে উন্নত পরিসংখ্যান মডেল, বুকমেকারদের দেওয়া অডস এবং ট্রান্সফার মার্কেটের বিশেষজ্ঞ মতামত একত্র করে প্রতিটি দল ও খেলোয়াড়ের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম সেই শক্তির মূল্যায়ন করে এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করে।

‘দি ইনডিপেনডেন্ট’-এ প্রকাশিত লেখায় তিনি বলেন, ‘আমরা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সম্ভাব্য গতিপথ নির্ধারণ করতে ১,০০,০০০ বার সিমুলেশন চালিয়েছি। ফলাফলে দেখা যায় স্পেন শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার, তাদের জয়ের সম্ভাবনা ১৪.৫ শতাংশ। এর পরেই আছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স, উভয়ের সম্ভাবনা ১২.৪ শতাংশ করে। জার্মানির সম্ভাবনা ১১.২ শতাংশ।’

তিনি আরও জানান, ‘পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনারও শিরোপা জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, যথাক্রমে ৮.৯ শতাংশ এবং ৮.২ শতাংশ।’

এই পূর্বাভাস তৈরির ক্ষেত্রে জেইলেসের অ্যালগরিদম চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করেছে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রথমত, গত আট বছরের সব জাতীয় দলের ম্যাচের ফল বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের শক্তির একটি “রেট্রোস্পেকটিভ” মূল্যায়ন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বুকমেকারের দেওয়া অডস ব্যবহার করে একটি “প্রসপেকটিভ” শক্তি অনুমান করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্ট নিয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ মতামত প্রতিফলিত করে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তৃতীয়ত, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গোল অবদানের মাধ্যমে রেটিং তৈরি করা হয়েছে।

আর চতুর্থত, খেলোয়াড়দের বর্তমান মান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের বাজারমূল্যের মাধ্যমে, যা ট্রান্সফারমার্কেট ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয় এবং এটি “ওয়াইজডম-অফ-দ্য-কাউন্ট” পদ্ধতিতে মানুষের সম্মিলিত মূল্যায়নকে প্রতিফলিত করে।’

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ