প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ন

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার জন্য ২৫০ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের মতো নতুন উদ্যোগও বাজেটে স্থান পেয়েছে।

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা খাতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ। যদিও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য রয়েছে, তবে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাত নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আরও বেশি বরাদ্দের পক্ষে রয়েছেন। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের বরাদ্দ বাস্তবায়ন করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে এবারের বাজেটে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখতে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তির জন্য ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য আরও ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং সদ্য জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের লক্ষ্যে ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণে ৩৮৬ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কারিকুলাম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিমার্জন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জেলা সদরের বড় সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়কে আধুনিক স্টেম-ফোকাসড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত করার প্রকল্পের আওতায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৯৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। চলতি বাজেটে সেই বরাদ্দ এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হচ্ছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ।

এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৮টি নতুন প্রকল্পও হাতে নিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণে এককালীন ৫০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের ট্রমা কাটিয়ে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।

এছাড়া বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ভোকেশনাল শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আগামী অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ভবিষ্যতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে মোট ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ