মাগুরা মহম্মদপুরের ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯, ৮:০২ অপরাহ্ন

আশিষ সাহা জনি, মহম্মদপুর, মাগুরা ।।
মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা বেজড়া নুরানীয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এক শিশু ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ১৯ জুলাই শুক্রবার বেলা এগারোটার দিকে এ যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ ঘটনাটি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। তবে  বিষয়টি নিয়ে থানায় কোন অভিযোগ না করায়  পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত  শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার শিকার  শিশুটির পিতা জানান, মাদ্রাসার  শিক্ষক বোরহান উদ্দিন নহাটা নারানদিয়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের ছেলে বেশ কিছুদিন  যাবত তার শিশু পুত্রসহ আরো কয়েকজন  ছাত্রকে কৌশলে রাতে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে জিনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। এছাড়া কাউকে ঘটনাটি বললে জিন চালান দিয়ে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার  হুমকি দেয়া হয়। প্রাণের ভয়ে অন্য ছাত্ররা কিছু না বললে ও তার ছেলে শুক্রবার মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে গিয়েই প্রথমে তার মাকে ও পরে তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি শিক্ষকের এমন ন্যাক্করজনক ঘটনার শাস্তি দাবি করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা আইনের শরণাপন্ন না হয়ে এবং ছেলেটির পিতাকে থানায় অভিযোগ করতে না দিয়ে উল্টো সালিশি বৈঠক করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় অব্যাহত। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

মাদ্রাসার বড় হুজুর নামে পরিচিত নুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করেছি। যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন, সে কারণে মাদ্রাসার কমিটির মাধ্যমে এখন ও কোন সুরাহা হয়নি। তবে এমন ন্যাক্করজনক ঘটনার জোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ফিরোজ মেম্বর ও  সহ-সভাপতি নান্নু মিয়ার সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বললে তারা  জানান, সামাজিক মান সম্মানের কথা চিন্তা করে আমরা এ বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করলে ও অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাহা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে অভিযোগ অনুসারে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ