আশিষ সাহা জনি, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি।।
সোমবার (৭ জানুয়ারী) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামে মাইশা নামে ৫ মাস বয়সের একটি কন্যা শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ও তাহমিনা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান মাইশা।রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদুরে একটি খালে শিশুটির ভাসমান মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয়রা।এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি।কাল বিলম্ব না করে সোমবার সকালে শিশুটির দাফন সম্পুন্ন করা হয়েছে। তাইয়েবা (৫বছর) নামে ওই দম্পতির আরও একটি কন্যা সন্তান আছে।পরপর দুটি কন্যা শিশু জন্ম হওয়ায় ওই শিশুটিকে পরিবারের কেউ হত্যা করতে পারে বলে ধারনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসি।একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দিয়ে বিষয়টির সঠিক তদন্তের দাবী জানিয়েছেন এলাকার অনেকেই।
ফয়সাল আলম নামে এক প্রতিবেশীসহ অনেকে জানান, রবিবার সকালে মাইশাকে বাড়িতে রেখে তার মা তাহমিনা খাতুন বিএ পরিক্ষা দিতে মাগুরা শহরে যায়। শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান নিজ জমিতে চাষাবাদের কাজে মাঠে ছিল। বিকেলে তাহমিনা বাড়িতে ফিরে ঘরে গিয়ে শিশুটিকে না দেখতে পেয়ে তার শ্বাশুড়ি রেবেকা বেগমের কাছে শিশুর ব্যাপারে জানতে চান।তিনি জানান শিশুটি ঘরেই ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু ঘরের মধ্যে কোথাও না পেয়ে অনেক খোঁজাখুজির পর শিশুটির মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী একটি খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।এ সময় বিষয়টিকে জিন,পরি বা কোন অপশক্তির কাজ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন রেবেকা বেগম।ঘটনা জানাজানি হলে রাতে পুলিশ এলে তাদের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।
ফয়সাল আরো বলেন,বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান জিয়াউর রহমানের পরিবারে কোন পুত্র সন্তান না হওয়ায় তার মা রেবেকা বেগম প্রায়ই পুত্রবধু তাহমিনা বেগম কে দোষী করে বকাঝকা করতেন।এমনকি পুত্র সন্তান লাভের আশায় জিয়াউর রহমানকে আবারও বিয়ে দেয়ার কথাও বলতেন তিনি।এ অবস্থায় হাটতে না জানা এ ছোট্ট শিশুটি কিভাবে খানিকটা দূরবর্তী খালে গেল?পানিতে ডুবলেও তার পেটে কোন পানি ছিল না এবং খালের পাড়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে থাকা শাড়িটি কার এমন নানা সন্দেহ জনক প্রশ্নের বিষয়ে খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় শিশুটির মা তাহমিনা খাতুন বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন।কথা বলতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজী হননি ওই পরিবারের সদস্যরা।
মাগুরার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান জানান, ঘটনার পর পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়েছিলো।কিন্তু শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় এখনও মামলা হয়নি।তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
You must be logged in to post a comment.