“ঝামেলা আছে সেলাই করে দেন”

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ২:২৫ অপরাহ্ন

মহসিন মোল্যা, মাগুরা প্রতিনিধি।।

রোগীর কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীকে ভয় দেখিয়ে  বলেন-এখনই অপারেশন না করলে আপনার মৃত্যু হতে পারে।তাই বাড়ী থেকে টাকা পয়সা জোগাড় করে নিয়ে আসেন দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। আমি অপারেশনের ব্যবস্থা করছি।তখন অসহায় ঐ গৃহবধুর স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ধার দেনা করে ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তার স্ত্রীর অপারেশনের জন্য।গত ১৪ জানুয়ারী সোমবার  সকাল ৯ টার দিকে ডাক্তার মোঃ মুক্তাদির রহমান নিজে অপারেশন না করে এমনকি কোন প্রকার সার্জিক্যাল,গাইনী বিশেষজ্ঞ ও অজ্ঞানের ডাক্তার ছাড়াই তার ক্লিনিকের দুই জন সাধারণ সেবিকা দিয়ে জরায়ুতে টিউমারের অপারেশন করতে বলেন।  অপারেশন রুমে গিয়ে দুই নার্স যখন রোগির পেট কাটতে যায় তখন রোগী তনু বেগম বলেন,আপনারা আমার শরীর কাটছেন ডাক্তার সাহেব কোথায়।তখন  নার্সরা বলেন যে ডাক্তার এখনই আসবেন। ঐ সময় নার্সরা তার অপারেশন করার জন্য পেট কেটে টিউমারে অস্ত্রোপচার চালায়।মহিলার জরায়ু ও টিউমারে অতিরিক্ত চর্বি দেখে ভয় পেয়ে তারা ডাক্তারকে ফোন করলে প্রায় ১৫ মিনিট পরে ডাক্তার অপারেশন কক্ষে এসে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে নার্সদের বলে ঝামেলা আছে সেলাই করে দেন।

এ সময় ডাক্তার মুক্তাদির রহমান অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে রোগীর স্বামীকে বলেন আপনাদের রোগীর অপারেশন এখানে হবেনা।রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ।এখনই ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে।সেখানে আমার পরিচিত ডাক্তাররা  ব্যবস্থা নেবে।

রোগীর স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন,এই কথা বলে ডাক্তার আমাদের ফরিদপুর  পাঠিয়ে দেন।সেখানে  গিয়ে দেখি আমাদেরকে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

তাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,রোগীর জরায়ুতে টিউমার হয়েছে।কিন্তু মাগুরার ডাক্তার আবার এই হাসপাতালে পাঠালো কেন?এমন সময় রোগীর একজন রোগীর স্বজনকে বলেন,আপনারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে রোগীকে না নিয়ে এখানে  আনছেন কেন?আপনারা রোগীকে মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভর্তি  করার  পর  কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভালো করে দেখে  বলেন,রোগীর  অবস্থা আশংকাজনক এই  মুহুর্তে তাকে  অপারেশন  করা যাবে না।তার শারিরীক অবস্থার  উন্নতি হলে আমরা পরে জানাব।অপারেশন  করা যাবে কি না? আপনারা সময় মত এখানে তাকে নিয়ে এসেছেন না হলে আপনাদের রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হত না।

এরপর থেকে তনু বেগম ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে ভুক্তভুগির পরিবার জানায়।

স্বজনেরা বলেন,নার্স দিয়ে রোগীর অপারেশন করাই ওই রোগীর মৃত্যুও সম্ভবনা দেখে ডাঃ মুক্তাদির  রহমান নিজে আর অপারেশন না করে তড়িঘড়ি করে ফরিদপুর পাঠিয়ে দেন।এ সময় তিনি ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়েও যান।

এলাকায় এ ঘটনা রটে গেলে রোগীর স্বজনরা বুধবার সকালে মাগুরা থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান,মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সিজারিয়ান রোগীদের ভাগিয়ে তার পলি ক্লিনিকে ভর্তি করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অপারেশন করে থাকেন।এ ধরনের ঘটনা  ডাক্তার মুক্তাদির রহমান একাধিক বার তার ক্লিনিকে ঘটিয়েছেন  বলেও তারা অভিযোগ করেন।এ ব্যাপারে  পলি ক্লিনিকের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ডাক্তার  মুক্তাদির রহমানের বড় ধরনের শাস্তির দাবি  জানিয়েছেন রোগীর স্বামী ও স্বজনেরা।

এ ব্যাপারে ডাক্তার মোঃ মুক্তাদির  রহমানকে না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে  কথা বললে তিনি বলেন,আসলে মাগুরায় এসব রোগীর অপারেশন হয়না।আমরা শুধু উপরের চামড়াটাই কেটেছিলাম। রোগীকে সেলাই করে পাঠিয়ে দিয়েছি।এ ধরনের অপারেশন  আমার  নার্সরাই করে  থাকেন।

এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব সিরাজুল ইসলাম জানান,এ ধরনের কোন লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ