মহসিন মোল্যা, মাগুরা।।
মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া গ্রামে আলম মোল্যা হত্যাকান্ডের জের ধরে প্রতিনিয়ত চলছে ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা।হত্যাকান্ডের ফলে প্রতিপক্ষের প্রায় প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।যা যে সমস্ত নারীরা এখনো গ্রামে অবস্হান করেছেন তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসির সূত্র মতে জানা যায়,আমুড়িয়া অনেক বড় গ্রাম। গ্রামের এক পক্ষের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল,সৈকত,সোহেল।বিএনপি সাথে নিয়ে অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে টিপু শিকদার ও মহব্বত।
এই এলাকায় ৩০ বছরে ইতিহাসে ৪ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।১৯৮৮ সালে সালসুল ইসলাম,১৯৯৮ সালে হালিম মোল্যা,২০১৫ সালে সাইফার বিশ্বাস এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর শনিবার আলম মোল্যা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় আলম মোল্যা হত্যাকান্ডের জেরে মসিয়ার মেম্বর,ইমরুল মেম্বর,বাদশা মোল্যা,ওহিদ,ডাঃ মাফুজুর রহমান,বাহারুল মাষ্টার,ইপিয়ার মোল্যা,শাহিন মোল্যা,গোলাম মোল্যা,গোলাম রসুল,উজির মন্ডল,নওশের মোল্যা,হাফিজার মোল্যা,আনোয়ার সহ প্রায় শতাধিক বাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বসতভিটাতে বাতি জ্বালানোর মত কেউ নাই।পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি।খুলে নেওয়া হয়েছে বসত ঘরের জানালা দরজা।ফলজ কোন গাছ ও রক্ষা পাইনি।
আমুড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান,গরীব সংসারে উপার্জনের কেউ নাই।স্বামী ঘটনার পর থেকে গ্রাম ছাড়া।ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই দিন যাপন করতে হচ্ছে।
নিহত আলম মোল্যার চাচা বছির মোল্যা জানান,আমার ভাতিজা নিহত হওয়ার পর আমরা কারো বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করিনি বরং মারামারির শুরুতেই প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়ি ভাংচুর করেছে।
ইমরুল মেম্বর জানান,গ্রামে আমাদের গ্রুপের প্রতিটি বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।প্রতিপক্ষের লোকজন ৫০ টির অধিক গরু লুট করেছে।আমাদের মাঠের পাঁকা ধান কাঁটতে দিচ্ছেনা নিজেরাই কেঁটে নিয়ে যাচ্ছে।কাউকে লোক দিয়ে কাঁটতে দিলেও বিঘা প্রতি ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।পুলিশ এই ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।
শুক্রজিৎপুর ফাড়ি ইনচার্জ জনাব মুজাহিদ হোসেন জানান,পরিস্হিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।গ্রামটা অনেক বড় তবুও কোন স্হান থেকে কোন খবর আসার সাথে সাথেই আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।
You must be logged in to post a comment.