বুড়িগঙ্গার তীরেও পলাশীর চক্রান্ত আছে: গোলাম পরওয়ার

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ন

এখনও পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুড়িগঙ্গার তীরেও কিন্তু সেই পলাশীর চক্রান্ত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। পলাশী মানেই কিন্তু সেই ভাগীরথী নদীর তীরের সেই পলাশী নয়। এখনও পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুড়িগঙ্গার তীরে কিন্তু সেই পলাশীর চক্রান্ত আছে। নামের মীর জাফর হয়ত নেই, কিন্তু আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের চরিত্রে অসংখ্য মীর জাফর এই ভূখণ্ডে বসবাস করছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পলাশীর ট্র্যাজেডির মূল কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা। বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রুই বেশি ভয়ংকর, আর ক্ষমতার লোভে দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসই পলাশীর ইতিহাস। তাঁর মতে, ১৭৫৭ সালের বিপর্যয় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নিঃশেষ করেনি; বরং সেখান থেকেই নতুন স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়, যা ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুগে আধিপত্যবাদ সরাসরি ভূখণ্ড দখলের মাধ্যমে নয়; বরং অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে। তাই কেবল ভূখণ্ডগত স্বাধীনতা নয়, বরং প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধারার নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রিক বাস্তবতাকে অস্বীকার বা প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে জাতিসত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ