৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণের ঋণ দাবি করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তারা বলছেন, আমরা সরকারি স্কেলের শতভাগ পাই। সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তা-শিক্ষক ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণের ঋণ পেলে আমাদের কেন বঞ্চিত করে রাখা হবে।
শিক্ষকরা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নানাভাবে বঞ্চিত। প্রাপ্য বৈশাখীভাতাও ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়েছে দুই বছর পর। এছাড়া নানামূখী বঞ্চনা তো আছেই।
রমজান অালী নামে এক শিক্ষক বলেন, আর্থিক অনটনে আছি। দীর্ঘদিন ঢাকায় আছি। কিন্তু অর্থাভাবে নিজের কোনো বাড়ি নেই। সরকার সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তাদের ন্যায় আমাদেরও ৫ শতাংশ সরল সুদে ঋণ দিলে বাড়ি বানাতে পারতাম।
রফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক তার ফেসবুকে লিখেছেন, শুধুমাত্র সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নয় ৫% সরল সুদে বেসরকারী শিক্ষক- কর্মচারীদেরও গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়ার দাবী বে-সরকারি শিক্ষকদের।
মেহেদী হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, সবচেয়ে অবহেলায় আছে কর্মচারীবৃন্দ। যাদের জায়গা ঘরবাড়ী নাই তাদের জন্য অন্তত গৃহঋণ দেয়া খুবই প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বল্প সুদে গৃহঋণের প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী হওয়ার সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫৬ বছর পর্যন্ত গৃহনির্মাণে ৫ শতাংশ সরল সুদে ঋণ নিতে পারবেন সরকারি কর্মচারীরা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীরা শতকরা ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ পাবেন। প্রজ্ঞাপনের আওতায় জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। এ ঋণের মোট সদুহার ১০ শতাংশ। তবে সুদের ৫ শতাংশ সরকার বহন করবে। বাকি ৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে ঋণগ্রহীতাকে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধ শুরুর সময়) ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত এ সুবিধা এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা পাবেন কিনা তা এখনো অবগত নয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে খোঁজ–খবর নেবেন বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা মন্ত্রী ওই সময়ে বলেছিলেন, ‘এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে–স্কেল ঘোষণা করা হলেও পরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও আমরা এ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসি। একইভাবে স্বল্প সুদে গৃহঋণের সুযোগও তারা (এমপিওভুক্তরা) পাবেন কিনা, তা এখনো আমরা অবগত নই। তবে আমি এ বিষয়ে খোঁজ–খবর নেবো।’
গতকাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণের ঋণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বলা হয়, সরকারি চাকরীজীবিদের মত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও গৃহ নির্মাণে ৫ শতাংশ সরল সুদে ঋণ দেওয়া হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এই ঋণ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ঋণ দিতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে অর্থ বিভাগ গত সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এক চিঠিতে বলেছে, নীতিমালা প্রস্তুতের পর এই ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণের আওতায় আনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে একটি পৃথক নীতিমালা প্রস্তুতের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রস্তুতের পর সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।’