শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজির করাকে কেন্দ্র করে এজলাসে বিচারক ও আইনজীবীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য রেখে এজলাস থেকে নেমে যান বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও মামলার পক্ষগুলো।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা দূর-দূরান্তের মামলার বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেও হাজিরা দিতে না পারায় তাদের সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার আনাখন্ড গ্রামের শফিক শিকদারের স্ত্রী মুক্তা বেগম একই এলাকার তুহিন সরদারের ছেলে রামিম সরদারের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। মামলার নম্বর নারী-শিশু ১০/২৫।
মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার উদ্যোগের পর আদালতে সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্যোগ নেয় বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতু আক্তার।
অ্যাডভোকেট মিতু আক্তারের অভিযোগ, সাক্ষী হাজির করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বাদীর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় তিনি নিজেই বাদী ও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করেন। মিতু আক্তারের দাবি, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার পর অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এজলাসের মধ্যে তাঁকে ধমকাতে থাকেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অনুমতি ছাড়া সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে বিচারকের উদ্দেশ্যেও তিনি আপত্তিকরভাবে কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন মিতু আক্তার। এ সময় তিনি কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
মিতু আক্তার বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে সাক্ষীদের নিয়ে গেলে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আমি নিজেই সাক্ষীদের আদালতে হাজির করি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারকের সামনে আমার সঙ্গে এবং বিচারকের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। পরে বিচারক বিচারকার্য না করেই এজলাস থেকে নেমে যান।”
এডভোকেট ফিরোজ আহমেদ ও এডভোকেট তাজুল ইসলাম এসময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, স্বাক্ষী হাজিরা কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কামরুল হাসান এজলাসে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় আদালত নেমে যায়।
আদালতের পেশকার শাহিন বলেন, স্বাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে এডভোকেট কামরুল হাসান বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় বিচারক আদালত থেকে নেমে যান। পরবর্তীতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মনিরুজ্জামান দিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির ও সাবেক সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেম এসে স্যারের সাথে স্বাক্ষাত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার আরেক বাদী অভিযোগ করেন, কয়েকটি তারিখে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও আদালতে হাজির করানো হয়নি। সোমবার হাজির করানোর কথা বলে তাঁকে আদালতে থাকতে বলা হলেও সারাদিন অপেক্ষার পরও তাঁর ডাক পড়েনি। পরে পেশকারের কাছে জানতে পারেন, তাঁকে হাজির করার জন্য আদালতে কোনো আবেদন করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আদালত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।
You must be logged in to post a comment.