রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ছে!

মোঃ হায়দার আলী, রাজশাহী
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ন

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী  : রাজধানী থেকে ঢাকা, রাজশাহী নয় গ্রামে গজ্ঞে, পাড়া, মহল্লায় ডেঙ্গুর সনাক্ত হচ্ছে রোগি।  রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষায় গড়ে পাঁচজনের ফল পজিটিভ আসছে। সরকারি হাসপাতাল গুলোতেও নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রেমতলী  সূত্রে জানা গেছে, এই মাসে মোট টেস্ট ১৭৭ করা হয়েছে  হাসপাতাল ল্যাবে  পজিটিভ ৭ জনের। এর আগে ৭ জনের দেহে পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। ২৪ নভেম্বর ও ২৫ নভেম্বর  ৪০  জন টেষ্ট করে কোন পজেটিভ পাওয়া যায় নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু পজেটিভদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা   ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চলতি মাসের ২৫  অক্টোবর পর্যন্ত ২৭০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬  জনের ফল পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. সুমন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট রয়েছে। রোগীদের বিশেষায়িত সেবা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি।
প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদ বলেন, এই মাসে মোট টেস্ট ১৭৭। হাসপাতাল ল্যাবে মাসে পজিটিভ ৭ জন।  ডেংগু নিয়ে এই মাসে মোট ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। মৃত্যু নেই।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পাশাপাশি মশাবাহিত এ রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন স্থানে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে,  পানির ট্যাঙ্ক ও পাত্র ঢেকে রাখতে হবে, শিশু ও বয়স্কদের সকাল সন্ধ্যা মসরীর মধ্যে থাকতে হবে। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন, জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামার্শ নিয়ে হবে। আতঙ্কিত হবার কেন কারণ নেই।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, উপজেলা ও বিশেষ করে পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মশা নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।
Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ