হরমুজে আটকা হাজার হাজার নাবিক

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক নাবিক ও সমুদ্রকর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থার আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা বা আইএমও আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা বা আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে এই বৃহৎ উদ্ধার অভিযানটি মূলত ইরান, ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌ শিল্পের সাথে অত্যন্ত নিবিড় সমন্বয় ও যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন যে, ‘আমরা এই অপারেশন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছি এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি।’

উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করার পরপরই তেহরান নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই প্রধান নৌপথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা বন্ধ করে দিয়েছিল।

এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথে আটকা পড়ে থাকে। তবে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্লিপলার শিপিং ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার রেকর্ডসংখ্যক অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালিটি সফলভাবে অতিক্রম করেছে।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আইএমও-এর এই উদ্ধার পরিকল্পনাটি মূলত বিগত কয়েক মাস ধরে আলোচনার টেবিলে ছিল এবং বর্তমান ঝুঁকি এড়াতে এই ক্রসিং বা অপসারণ প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

ওমান প্রশাসনের মতে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দুটি জাহাজের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় জলপথে ট্রাফিক বা জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ধীর এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরিচালনা করা প্রয়োজন। এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুনরায় সচল করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে নতুন করে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক।

হরমুজ প্রণালির মাঠপর্যায়ে অবস্থানরত আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা এখন আগের চেয়ে কিছুটা ইতিবাচক মোড় নিয়েছে।

ওমান ও ইরানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে দুই দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরায় সচল করার নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এই জলপথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে ঠিক কতটা সময় লাগবে তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং সেই পর্যন্ত শত শত জাহাজকে এই প্রণালির দুপাশেই নোঙর করে অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব বা সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমেরিকার সাথে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির অধীনে ইরানকে এই আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো ধরনের যাতায়াত কর বা শুল্ক আদায় করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

মার্কিন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি আদায় করার আইনি অধিকার নেই।’ তবে এর বিপরীতে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জোর দিয়ে বলেছেন যে দুই বৈরী দেশ যোগাযোগ লাইন সচল রাখতে সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আর কখনোই যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না।

সূত্র: আল জাজিরা

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ