জাকির হোসেন, শার্শা (যশোর) ।।
যশোরের শার্শা উপজেলার খাল বিল নদী নালা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন বেকার হয়ে পড়েছে। কর্মহীন এসব লোকজন ডাল ভাতের টাকা জোগাড় করতে খাল বিল নদী থেকে কুচে সংগ্রহ করে জীবন যাপন করছেন। তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন খাল বিল নদী নালা থেকে মাছ ধরেই জীবন যাপন করে আসছিল। প্রভাবশালীরা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে খাল বিল সহ সকল জলাকার বন্দোবস্ত নিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করছে। এসব জলাকারের পাশ দিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন চলাফেরা করতে গেলে ও তাদের তা দেওয়া হয়না। কারণ তাদের নেশা মাছ ধরা এবং এ মাছ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালানো। আজ তারা মাছ ধরতে না পেরে অভাব অনটনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঠিকমত ৩ বেলার খাদ্য, ঔষধ, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে তারা খাল বিল নদী নালা থেকে কুচে ধরে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের কুচে সংগ্রহকারী হারা বলেন, বিল বাওড় এই এলাকায় যা আছে তা লোকে করে কম্বে খায়। আমরা যদিও কোন কাজ করতে যাব, সেই পরিস্থিতি আমাদের নাই। কারণ আমরা অন্য কোন কাজ-কাম পারিনা। তাই আমরা বর্তমানে এই কুচে ধরে কোন মতে সংসারটা চালাই। কোনদিন ১/২ কেজি পরিমাণ, আবার কোনদিন পাইনা আর বাজারে এই কুচে আমরা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। আমি সরকারের নিকট দাবি জানাই যে, সরকারী জলাশয়গুলি যদি উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে আমরা যারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করি তাদের অভাব অনটন দূর হবে।
শার্শা উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের কুচে সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ী নিত্য বলেন, বর্তমানে আমাদের এখানে যে সকল বিল বাওড় আছে তা অনেক প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। কোন কাজ না থাকায় আমরা কুচে ধরে জীবন-যাপন করে থাকি। পাশাপাশি আমি এই কুচে ক্রয় করে ঢাকায় বিক্রি করে থাকি। শুনেছি এই কুচে ঢাকা থেকে চীন দেশে যায়। আমরা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। যদি এই দামটা একটু বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের একটু ভাল হয়।
শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, শার্শা উপজেলা মৎস্য সম্পদের একটি প্রাচুর্য ভূমি। উপজেলায় বিল বাওড় নদী নালার পাশে মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছে যারা মাছ ধরে বা কুচে ধরে জীবন নির্বাহ করত। বর্তমানে এ জায়গা গুলো সংকুচিত হওয়ায় তাদের জীবন মানের ব্যাপক বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। যেমন সদ্য অবমুক্ত বেতনা নদীতে অভয়াশ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন যেখান থেকে তারা জীবন নির্বাহ করতে পারছে। বেতনা নদীতে খাচায় মাছ চাষের পাশাপাশি তারা কুচে ধরে জীবন নির্বাহ করত। কুচে বাণিজ্যিক চাষে নিয়ে আসার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। বাণিজ্যিকভাবে অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাকড়া কুচের একটি গবেষণামূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
আগামী অর্থ বছরে যাহাতে এটা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে। শার্শা উপজেলায় যারা আদিবাসি সম্প্রদায় বা কুচের সাথে সম্পৃক্ত তাদের এই কুচে চাষে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবন মান যাতে উন্নত হয় এবং তারা এই মাছ যাহাতে বাহিরে বিক্রি করতে পারে। কুচে একটি বিশেষ পুষ্টি সমৃদ্ধ জলজ প্রাণী। অন্যান্য মাছ এবং চিংড়ির থেকে পুষ্টি অনেক বেশি থাকে। যেটা থেকে স্থানীয় পর্যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। এতে করে আদিবাসি বা মৎস্য জীবি সম্প্রদায়ের জীবন মানের উন্নয়ন হবে।
You must be logged in to post a comment.