বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ঘরে- বাইরে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান রক্ষা করা হবে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, আপনি যদি সত্যিই মাকে সম্মান দেখাতে চান তাহলে সকল মায়েদের সম্মান করতে হবে। যার বয়স এক বছর, তাকেও সম্মান করতে হবে। কারণ, সে-ও একদিন মা হবে। একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিথ্যাবাদীরা অনেক কিছুই বলতে পারে, করতে পারে। একদিকে মেয়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে আবার মায়েদের গায়ে হাতও তুলছে এটি কেমন ফমিলি কার্ড? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমীর। মাদকমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়তে চাই। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি হবে না। দেশে ১৮ কোটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে ইনসাল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের মাকে সম্মান করতে পারেনা, তারা গোটা জাতিকে সম্মান করতে পারে না। যারা নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্য নারীকেও সম্মান করতে পারে না। তিনি বলেন, জীবনের চেয়ে মায়ের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি, তাই যে কোন মূল্যে মায়েদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়। পরিবর্তনের নির্বাচন. মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যাওযার নির্বাচন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর চাঁপাই নবাবগঞ্জ জনসভা শেষে মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠের সমাবেশস্থলে পৌঁছান। এ সময় মাঠজুড়ে উপস্থিত ছিল হাজারো নেতাকর্মী, সর্মথকরা স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘জামায়াত আমিরের আগমন, শুভোচ্ছা স্বাগতম- এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমাবেশস্থলের চারপাশ। এর আগে থেকেই জনসভাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, তানোর উপজেলার হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এ মাঠে জড়ো হন। মঞ্চে বক্তব্য দেন জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। জনসভা ঘিরে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, সারা বাংলাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর সর্বোচ্চ জুলুম অত্যাচার হয়েছে। তিনি বলেন, মা বোনদের ধরে ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জেলে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছি। বিগত সরকারের
তিনি আরও বলেন, একটি দলের চান্দাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। অথচ আমাদের দলের কোন নেতাকর্মী চন্দাবাজ, দখলবাজ বা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নেই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসমস্ত চান্দাবাজ, দখলবাজদের হাত শক্ত করে ধরে ফেলা হবে। সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। বিদেশে টাকা পাচারকারীদের পেটে হাত ঢুকিয়ে লুট করা সম্পদ বের করে আনা হবে। যুবকদের বেকার ভাতা না দিয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। জামায়াতী ইসলাম ক্ষমতায় গেলে কোন শিক্ষিত চোরের হাত আপনাদের সম্পদ খেয়ে ফেলতে পারবে না। খেতে দেয়াও হবে না। এই দুঃখী বাংলাদেশের সম্পদ কিছু লোক, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, এসমস্ত জনগণের সম্পদ লুটকারীদের সাথে জামায়াত ইসলামীর কোন আপোষ নেই। এখানে আমরা আপোষহীন।
যেদিন জামাত শপথ নেবে সেদিন থেকে কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে না। কর্মজীবী, চাকরিজীবী সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ইনসাফের সাথে জামায়াত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকবে, অন্যায় অপরাধ দমন করা হবে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির আরো বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমে হ্যাঁ চিহ্নে ভোট দিন। এরপর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। কারণ, হ্যাঁ মানে আযাদী, না মানে গোলামী। আর দাড়িপাল্লা হলো ইনসাফের প্রতীক। তিনি রাজশাহীর ছয়টি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ওসমান হাদি তোমাকে কথা দিচ্ছি, তোমার হত্যার বিচার হবে, ১৪০০ শহীদকে কথা দিচ্ছি, তোমাদের হত্যাকাণ্ডেরও বিচার করা হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে তোমরা যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলে, আমরা তোমাদের ঋণ পরিশোধ করবো। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। আমার সোনার দেশ গড়ার জন্যেই আমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।”
রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোঃ আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে রাজশাহী ১ আসনের প্রার্থী জামায়াতের নায়েবী আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় শিবিরের সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জনাব মোঃ গোলাম মুর্তজাসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, আলেম-ওলামা, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যা প্রমাণ করে জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সনদ একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা এবং ভোটাধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে।
পাশাপাশি রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন জনসভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংবাদ সম্মেলনের বার্তা সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ সময় ১১ দলীয় জোটের সকল শরিক দল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি এবং গণতন্ত্রকামী নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
You must be logged in to post a comment.