আশরাফুল আলম জালাল, নান্দাইল, ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী শাহিদা।অভাব যার নিত্যসঙ্গী।আল আমিন পেশায় রিক্সা চালক।কিন্তু সম্প্রতি করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়ে।
অভাবের তাড়নায় সন্তানের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার সংস্থান করতে চলে যায় গাজীপুরে।সেখানে সে অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করতো।
ঈদ সামনে রেখে গত ২২ মে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে শাহিদা।চলমান লকডাউনের কারণে যাত্রীবাহী গাড়ি না থাকায় টমটম করে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে সে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। পরে ফেইসবুক সহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে সর্বমহলে সাড়া জাগে।উঠে প্রতিবাদের ঝড়।অভিযোগ উঠে পরিবারটি সাত সন্তান নিয়ে নিষ্টুর জীবনযাপনের কথা।সরকার বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ করলেও জুটেনি তাদের ভাগ্যে।আসেনি কোন জনপ্রতিনিধি।
এ বিষয়টি নিয়ে খুবই দু:খ প্রকাশ করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন। মঙ্গলবার তিনি নিহত শাহিদার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি চাল, ডাল, তেল, আলু, চিনি ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যের সমন্বয়ের দুই বস্তা খাদ্যসামগ্রী ও নগদ ১ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান শাহিদার খুড়ে ঘরটি খুবই নাজুক অবস্থা। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।
নিহত শাহিদা ও স্বামী আল আমিন নান্দাইলের স্থায়ী বাসিন্দা। কিন্তু পরির্দশনকালে ইউএনও দেখতে পান তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) কার্ডে নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা এ কথার উল্লেখ নেই। তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত পরিবারকে এনআইডি কার্ড সংশোধন করার কথা বলেন।
ইউএনও মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন বলেন, “ত্রাণের কার্যক্রমে শাহিদা বা তার স্বামীর নাম কোন তালিকায় উঠে আসেনি বা কেউ আমাকে অবহিতও করেনি। তবে আশা করছি, জাতীয় পরিচয় পত্র ঠিক করা হলে সরকারের সামাজিক নিরপত্তার সব ধরনের সহযোগীতা পাবে উক্ত পরিবার। এছাড়া শাহিদার সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগীতা প্রদান করা হবে।”
You must be logged in to post a comment.