কক্সবাজারে বন্ধ থাকা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম তিন বছর পর চালু

আবদুল মান্নান, কক্সবাজার
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

৩১ আগস্ট থেকে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকা  কক্সবাজারে জন্ম নিবন্ধন প্রাথমিকভাবে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক( ডিডিএলজি) শ্রাবস্তি রায়।

নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হওয়া ইউনিয়নসমূহ হলো- টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং, উখিয়ার হলদিয়াপালং এবং রত্নাপালং।

কক্সবাজার সদরের ১০টির ইউনিয়ন ঝিলংজা, পিএমখালী, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, জালালাবাদ, খুরুস্কুল, ইসলামাবাদ, পোকখালী এবং ঈদগাঁও। তবে,চেয়ারম্যান ও সচিবের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকায় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ কে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয় নি।

তবে, তা দ্রুতই সমাধান হবে বলে জানান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ মারুফ।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার রোহিঙ্গা ইস্যু কে কেন্দ্র করে জেলায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ করে দেয় সরকার। তখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ফলে দেশের শ্রম বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরিতে কক্সবাজারের কয়েকজন চেয়ারম্যানের যোগসাজশ ছিল। তাই সরকার জেলায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ করে দেয়। অবশেষে

দীর্ঘ দুই বছর ১১ মাস পর নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হওয়ায় জেলাবাসী আনন্দিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায়(উপসচিব) জানান, কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের কাংখিত জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম ১২টি ইউনিয়নে ৩১ আগস্ট থেকে চালু করা হয়েছে।

৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করতে হবে। সেগুলো উপজেলা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন যাছাই বাচাই কমিটির কাছে উপস্থাপন করবে। যাছাই করে সঠিক প্রমাণ হলে পুণরায় অনুমোদন দিয়ে পরিষদে পাঠাবে। তারপর আবেদনকারীর হাতে নিবন্ধন সনদ দিবে ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রতিটি উপজেলায় শক্তিশালী বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সবদিক বাছাই করে চূড়ান্ত করে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করবেন।

ইতোমধ্যে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণের  হাতে পাসওয়ার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রোভাইডারদের হাতে তা প্রদান করবেন। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদসমূহে এখন থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন স্থানীয় জনসাধারণ।

গত শুক্রবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি সভায় জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের জন্য লাপটপ, মডেম এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দেয়া হয়।

নিবন্ধন কার্যক্রম যাতে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয় এবং কোন রোহিঙ্গা যেন নিবন্ধনভূক্ত হতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায়।

রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল- জরিমানাসহ কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ