আশরাফুল আলম জালাল, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের হতদরিদ্র আলামীনের স্ত্রী শাহিদা। সাত সন্তান নিয়ে ছোট খুড়ে ঘরে তার বসবাস।
স্বামী স্ত্রী পরের বাড়িতে কাজ করে কোনমতে চলে যাচ্ছিল তাদের সংসার। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পরে পরিবারটি।সরকার বিভিন্ন সহযোগিতা করলেও তার আওতায় আসেনি পরিবারটি।এমনকি পাশে দাঁড়ায়নি কেউ।
সামনে ঈদ সন্তানের মুখে অন্তত দু’মুটো ভাত যাতে দিতে পারে সেই আশায় ঘর ছাড়ে শাহিদা। চলে যায় গাজিপুর, মানুষের কাছে হাত পাতে।।
সামান্য কিছু টাকা যোগাড় করে শুক্রবার (২২ মে) বাড়িতে থাকা স্বামী সন্তানদের কথা চিন্তা করে ছুটে বাড়ির দিকে। লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার যান না থাকায় ছোট ছোট গাড়িতে বাড়িতে ফিরছিলো শাহিদা। এসেও পরছিল অনেক দূর।
কিন্তু বিধিবাম ভ্যান গাড়িতে চড়ে গাজীপুর জেলার জৈনাবাজারে আসতেই পিছনের চাকায় ওড়না পেছিয়ে ফাঁস লেগে মাটিতে পড়ে যায়, মারাত্মকভাবে আঘাত পায় মাথায়।আশপাশের মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় শাহিদা। এতিম হয়ে যায় সাত সন্তান। দূর্ভাগ্য লকডাউনের কারণে স্বামীর বাড়িতে লাশ আনা হলো না। গফরগাঁও উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ারগাওঁ বাপের বাড়িতে দাফন করা হয়।
ইউপি সদস্য অলিউল্লাহ কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল,, কেন এই এই পরিবারটি একটি সরকারি ঘর পাইনি, ১০ কেজি চাল পায়নি বা সরকারের কোন সহযোগিতা পাইনি,সে জানায়, ঘরের তালিকা অনেক পূর্বে হয়ে গেছে,, অন্য সুবিধা না পাওয়ার কারণ তারা যোগাযোগ করেনি। তবে আমরা মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরেছি সহযোগিতা করা হবে। ইউপি চেয়ারম্যান, আঃ মতিন কে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রহিম সুজন জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল না,তাই কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিবাটির জন্য সব রকম সহযোগিতা করা হবে।
You must be logged in to post a comment.