টেকনাফের বহিস্কৃত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হোয়াইক্ষং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান কে প্রধান আসামি করে মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়।
তন্মধ্যে ১১ জন পুলিশ ও অন্য জন হোয়াইক্ষং ইউনিয়নের দফাদার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার ২৭ আগষ্ট সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত(৩-টেকনাফ)) এ এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিকাশ ৩টার দিকে শুনানি শেষে এ বিষয়ে অন্য কোন হত্যা মামলা দায়ের ও মৃতের ময়না তদন্ত করা হয়েছে কি না তা জানাতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টেকনাফের ওসি কে নির্দেশ প্রদান করেন আদালতের বিচারক।
নিহত আবদুল জলিলের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে এজাহার টি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেন মামলার আইনজীবী মনিরুল ইসলাম।
এজাহারে বাদি জানান; গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে পারিবারিক কাজে কক্সবাজারে অবস্থান কালে জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ূয়ার নেতৃত্বে সাদা পোশাকের কিছু লোক ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতালের সামনে থেকে তার স্বামী আবদুল জলিল ও রফিকুল্লাহ কে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর তাদের টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
আটকের ১২ দিন একটি জিআর মামলা দিয়ে রফিকুল্লাহ কে আদালতে সোপর্দ করা হলেও তার স্বামী সিনজি ড্রাইভার আবদুল জলিল কে সোপর্দ করা হয় নি। আটকের তিন মাস পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পায়নি পরিবার। গত ৩ মার্চ ২০২০ তারিখে হঠাৎ হোয়াইক্ষং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চাঁদি দাবি করে। ধার কর্জ ও স্বর্ণ বিক্রি করে ৫ লাখ জোগাড় করে ১৬ মার্চ আসামি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বাকী টাকার জন্য আসামিরা তার স্বামী কে তিন মাস পর্যন্ত আদালতে সোপর্দ করা হয় নি।
এরপর ৭ জুলাই টেকনাফের হোয়াইক্ষং ইউনিয়নের কম্বনিয়ি বড়ছড়া এলাকায় সিনজি ড্রাইভার আবদুল জলিল কে “বন্দুকযুদ্ধে” হত্যা করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন; এএসআই আরিফুল রহমান, এসআই সনজিত চন্দ্র দে,জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর মানস বড়ূয়া, এসআই অরুন কুমার চাকমা, এসআই নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এএসআই রাম চন্দ্র দাশ, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা,হোয়াইক্ষং ইউনিয়নের দফাদারের পুত্র আমিনুল ইসলাম।
মামলা পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য্য তারিখ রয়েছে বলে জানান বাদির আইনজীবী।
You must be logged in to post a comment.