সাতক্ষীরার ভেটখালী বাজার থেকে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।।দেখার কেউ নেই

আব্দুল্লাহ আল মামুন  সাতক্ষীরা ।।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ৬:২০ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজারটি পেরিফেরীভুক্ত। বাজারটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় মোকাম। এ বাজারে সব ধরণের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।

বাজারটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কিন্তু টেন্ডারের মাধ্যমে কিম্বা প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে বাজারের ইজারা প্রদান করা হয়না। ফলে প্রতি বছর সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে রমজাননগর ইউনিয়নের আবুল হোসেনের পুত্র হুমায়ুন কবির, মৃত নওশের আলী গাজীর পুত্র নূরুন্নবী ইসলাম ইমন, মৃত আবুল শেখের পুত্র সবুর শেখ, মোক্তার মোল্যার পুত্র আমিরুল ইসলাম বাবু, ধীরেন্দ্র নাথের পুত্র গোবিন্দ কুমার এবং সফিকুল ইসলামের পুত্র রোকনুজ্জামান দোলন প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে ইজারা পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে বিভাগীয় কমিশনার খুলনা, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামনগর এবং কৈখালী ভূমি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার হাট-বাজার ইজারা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যম দরপত্র আহবান করে সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকুলে বাজার ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলে আসছিল। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক ভেটখালী বাজার পেরিফেরীভুক্ত হওয়ায় বার্ষিক ইজারা মূল্য সর্বনিম্ন ১১ লক্ষ টাকা ছিল। কিন্তু ২০১৮/১৯ সালে সর্বনিম্ন ১১ লক্ষ টাকার টেন্ডার কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে না পেয়ে বাজারটি সরকারি নীতিমালা মোতাবেক খাজনা খাস কালেকশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শ্যামনগর কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ১ বছরে ৯ লক্ষ টাকা প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে।

সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে খাস আদায়ের ব্যবস্থা না করে অতি গোপনে বৈশাখ মাসে জনৈক আব্দুস সবুরকে ৫০ হাজার টাকায় আর জৈষ্ঠ্য মাসে জনৈক আল মামুনকে ৬০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে খাস কালেকশনের জন্য ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে মাসিক প্রায় ১ লক্ষ টাকা খাস কালেকশন হবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। অথচ অতি গোপনে ইজারা দেওয়ার ফলে মাসিক ৩০/৪০ হাজার টাকা অর্থাৎ বার্ষিক ৪/৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এবিষয়ে কৈখালী ভূমি কর্মকর্তা সূধিন কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপনে হবে কি প্রকাশ্যে হবে, সেবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেখভাল করছেন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ. ন. ম আবুজার গিফারী বিষয়টি দেখার আশ্বাস প্রদান করেন। সরকারের অধিক রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে ভেটখালী বাজার খাস আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুধিমহল সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ