শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৪) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেল শিকদার (২৭) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে জেলার ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাশন এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সোয়াইফ হোসেন পশ্চিম আদাশন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালান।
একপর্যায়ে একই এলাকার একটি বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী একটি পরিবারের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়াঝাঁটি হয়। ওই ঘটনার জেরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
নিহতের বাবা সেলিম সরদার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীদের ঝগড়া হয়েছিল। শনিবার সকালে তিনি বাজার থেকে ফিরে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে ডোবা থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় রাসেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
You must be logged in to post a comment.