শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিক্ষা নিরিক্ষা ও অপারেশন করছে মেডিকেল সহকারীরা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৫৫ অপরাহ্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল সহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনয়িম ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ও আইনকানুন না মেনে চেম্বার খুলে তাদের নিজ তৈরীকৃত প্যাডে ডাক্তার পরিচয়ে প্রতিনিয়ত রোগী দেখার মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে চলেছেন। এমনকি সরকারী অফিস চলাকালীন সময়েও কেউ কেউ দেড়’শ থেকে দু’শ টাকা করে ফিও আদায় করছেন। ওষুধের ব্যবস্থাপত্রে লিখছেন উচ্চ পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ওষুধ। আবার কোন কোন মেডিকেল সহকারী নিজেকে সার্জন পরিচয় দিয়ে আশপাশের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার, হার্নিয়া, এপেনডিস ও জরায়ুসহ নানা অপারেশন করছেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু ঝুঁকির মুখোমুখী হচ্ছেন।

এছাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ডিউটিরত মেডিকেল সহকারীদের কাছ থেকে টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদের (মেডিকেল সহকারী) এ ধরণের কর্মকান্ডে স্বয়ং মেডিকেল অফিসারেরা (এমবিবিএস) এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন মেডিকেল সহকারী রয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশরাই নিজস্ব প্যাড বানিয়ে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা সাধারণ মানুষদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছেন। অফিস চলাকালীন সময়ে মেডিকেল সহকারী মোর্শেদা আক্তার সুমির বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ হতে দেড়’শ থেকে দু’শ টাকা ফি নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনিসহ মেডিকেল সহকারী আসলাম জমাদ্দার ও বিশ্বজিৎ মজুমদার প্যাড ছাপিয়ে নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রেসক্রিপসন করে আসছেন। তারা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে লিখেন উচ্চ পাওয়ারের দামী এন্টিবায়োটিক ওষুধের নাম। রোগীদের যা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশী বেশী উচ্চ মূল্যের ওষুধ লিখে ওষুধ কোম্পানীর কাছ থেকে নেয়া টাকা হালাল করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মেডিকেল সহকারী আসলাম জমাদ্দার নিজেকে সার্জন বলে পরিচয় দেন। এমবিবিএস ডাক্তার না হওয়া সত্বেও তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন কয়েকটি ক্লিনিকে সিজার, হার্নিয়া, এপেনডিস ও জরায়ুসহ বিভিন্ন অপারেশন করে থাকেন। এমনকি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে করছেন আল্ট্রাসনোগ্রামসহ ও ইসিজির কাজও। স্থানীয় ক্লিনিকগুলো বেশী লাভের আশায় এসব মেডিকেল সহকারীদের দিয়ে অপারেশন করানোতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। এদের হাতে কোন কোন রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে খুলনায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক স্টাফ জানান, মেডিকেল সহকারীদের মধ্যে কেউ কেউ সকাল ৯টায় এসে অনলাইন হাজিরা দিয়ে হাসপাতালের পাশ্ববর্তী তাদের চেম্বারে রোগী দেখেন। এছাড়া ওই সকল ক্লিনিকগুলোতে অপারেশন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রামসহ প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করে থাকেন। অথচ তারা কেউই এ বিষয়ে ডিপ্লোমা কিংবা ডিগ্রিধারী নন। এ ব্যাপারে মেডিকেল সহকারী মোর্শেদা আক্তার সুমি ও আসলাম জমাদ্দার অপারেশন, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম করা, অফিস চালাকালীন রোগীর কাছ থেকে ফি নেয়া, ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, জরুরী বিভাগে টাকা নেয়াসহ অন্যান্য অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে প্যাডে ডাক্তার পরিচয় দেয়ার বিষয়ে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে প্রাক্তন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী মেডিকেল সহকারীরা ডাক্তার নন। প্যাড বানিয়ে তাতে ডাক্তার পরিচয় দেয়া এবং উচ্চ পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক লেখা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ। মানব দেহে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করলে কিডনী নষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।  শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, মেডিকেল সহকারীরা নিয়ম না মেনে চেম্বার খুলে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখা, অপারেশন করা, অফিস চলাকালীন ফি নেয়াসহ একের পর এক নানাবিধ অনৈতিক কর্মকান্ড করে চলছে।

এ ব্যাপারে  স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাশী।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ