মাগুরা শ্রীপুরের দ্বারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০, ৮:১১ অপরাহ্ন

মহসিন মোল্যা,মাগুরা প্রতিনিধি।।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৫ নং দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কাননের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূনীতির বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বিভিন্ন দফতরে আবেদন দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ৯ জন নির্বাচিত মেম্বারের স্বাক্ষরে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা, জেলা প্রশাসক, মাগুরা, স্থানীয় সরকার বিভাগ উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত এ আবেদন জানিয়েছেন।

আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা হলেন-ইউপি সদস্য মোঃ লাভলু বিশ্বাস, মোঃ নবুয়ত আলী, মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, মোঃ বিল্লাল হোসেন মোল্যা, মোঃ জামাল বিশ্বাস, হামজা, মোঃ আবু সাইদ, মোঃ নওশের আলী শেখ ও মমতা সমাদ্দার।

লিখিত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫ নং দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন নির্বাচনের আগে একজন ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেন্ডেটেটিভ ছিলেন। তখন তার একটি টিনের ঘর ছিলো। কিন্ত বর্তমানের তিনি আনুমানিক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ৩ তলা বিল্ডিং করেছেন এবং তা দামিদামি আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়েছেন। এদিকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে মালাইনগর ইট ভাটার শেয়ার কিনেছেন। একটি ১০ টন টাটা ট্রাক কিনেছেন, বড়ইচারা ডিসি ইকোপার্কের জন্য বরাদ্দকৃত লোহার ছাতা অনিয়মের মাধ্যমে নিজের ছাঁদে স্থাপন করেছেন, স্বামী থাকতেও উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে ঘসিয়াল গ্রামের উন্নতি নামের এক মহিলার স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা করে দিয়েছেন। বর্তমানে করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণেও তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়াও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান কাননের বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ এনে ওই ইউনিয়নের ১০ জন মেম্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনাস্থা পত্র দেন।

অভিযোগগুলো হলো-ট্যাক্সের টাকা থেকে সম্মানী ভাতা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ, মাসিক সভা না করা, টিআর, কাবিখা, চল্লিশ দিনের কর্মসূচি, এডিবি ইত্যাদি প্রকল্পের তালিকা সভা না করে নিজে দেওয়া, এলজিএসপি’র কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, বয়স্ক, বিধবা, পঙ্গু, গর্ভকালীন ভাতা সদস্যদের মাধ্যমে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে নিজেই দিয়ে দেন, ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ কোন সভা না করে নিজেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক করেন, টাকার বিনিময়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড সমাজের বিত্তবানদের প্রদান করেন ও সদস্যবৃন্দের সাথে অসদাচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিজেই সহি সম্পাদন করানো।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন বলেন, তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে সামিিজকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াছিন কবির জানান, ৫ নং দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পত্রটি গ্রহন করা হয়েছে। অফিসের কার্যক্রম শুরু হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ