নতুন বিষয় তবে এমপিও নয়

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির অন্তর্ভক্ত করতে অর্থ বিভাগের আপত্তি রয়েছে। বেতনের সরকারি অংশ দেয়ার ক্ষেত্রেও উদাসীনতা দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন না দেয়ার শর্ত জুড়ে দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয় খোলার অনুমোদন দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হবে এমন শর্ত দিয়েই ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, এর আগেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি দেবার সময় শর্ত ছিল- এমপিও দেওয়া হবে না। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমপিও’র দাবি জানায় শিক্ষা প্রশাসনের কাছে। এ দাবিতে তারা রাজপথে মিছিল-সমাবেশ ও এমনকি প্রেসক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিও করেন।

এসব কারণে বেকায়দায় পড়েছে সরকার। তাই এমপিও না দেওয়ার শর্তে এবার নতুন বিষয় খোলার অনুমোদন দিচ্ছে। কারণ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ) দুই-তিনটি বিষয় নিয়ে খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে বর্ধিত না হলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় নতুন বিষয় খোলার দাবি নিয়ে আসে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, এমপিও পদ্ধতিতে অর্থ বিভাগের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাদের পরামর্শ হচ্ছে বৃত্তি দেওয়া যেতে পারে। এমপিও’র সুফল শিক্ষার্থীদের তেমন কাজে আসে না। যে কারণে দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, এবার আগে থেকে সতর্ক রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন বিষয় খোলার অনুমোদন নেবে, তাদের এমপিও দেওয়া হবে না- এ শর্ত মেনেই চলতে হবে।

তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি ঢাকা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, সিলেট, রাজশাহী এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪টি কলেজে নতুন বিষয় খোলার অনুমোদন দিয়েছে। কলেজগুলো হচ্ছে রাজবাড়ীর ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ, নালিতাবাড়ির হাজী নুরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ, রংপুরের মহিগঞ্জ কলেজ, রংপুর সিটি কলেজ, কুড়িগ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, জামালপুরের আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজ, নাটোরের জোনাইল ডিগ্রি কলেজ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধার মেরীরহাট মডেল কলেজ, রাজশাহীর এম. আর. কে কলেজ, হবিগঞ্জের বাহুবল কলেজ, নাটোরের বনপাড়া কলেজ, কুড়িগ্রামের উলিপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয় ও নওগাঁর চৌরাট শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজ।

উক্ত কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন বিষয়ে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার শর্ত হচ্ছে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে হবে। আগামী ১ বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। কলেজের কোনো শাখায় ক্যাম্পাস চালু করা যাবে না। ভবিষ্যতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করা যাবে না। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল শর্ত মেনে চলতে হবে। যে কোনো শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে যে কোনো সময় অনুমতি বাতিল হতে পারে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ