দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান আইনের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮, ৮:৫১ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদ মাস্টার্স ডিগ্রির (আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান প্রদান আইনের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে। সভায় মন্ত্রীদের সম্মতি মিললে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইন পাস হলে প্রায় সোয়া দুইশ বছর পর কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, দেশের সব কওমি মাদ্রাসা ‘আল-হাইয়াতুল উলায়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এ বোর্ডের অধীনেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন এ বোর্ডের অধীনে ছয়টি শিক্ষাবোর্ড কাজ করবে। বোর্ডগুলো হলো- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওগরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে উত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশে, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ। এ বোর্ডগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হলেও মূল বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলায়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কার্যালয় থাকবে ঢাকায়।

বোর্ডের কার্যালয় হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আশপাশে। প্রথমে ভাড়া নিয়ে এটি কার্যক্রম শুরু করবে। এ বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। পদাধিকার বলে বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি। কো-চেয়ারম্যান হবেন পদাধিকার বলে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি। মহাসচিব হবেন পদাধিকার বলে বেফাকের পাঁচজন সদস্য বা বোর্ডের মনোনীত ব্যক্তি। ছয়টি বোর্ডের সভাপতি ও মহাসচিব এ দুইজন পদাধিকার বলে সদস্য থাকবেন। তবে চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে যেকোনো সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবেন। তবে সংখ্যা ১৫ জনের বেশি হবে না।

খসড়া আইনে বোর্ডের কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এ কমিটি স্থায়ী কমিটি বলে বিবেচিত হবে। সনদ বিষয়ক সব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কমিটি। এ কমিটির মাধ্যমে নিবন্ধিত মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস এর সনদ সমমানের বিবেচিত হবে। কমিটির অধীন ও তত্ত্বাবাধানে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়গুলো অবহিত করবে।

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কওমি মাদ্রাসা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূল নীতিমালাগুলোকে ভিত্তি ধরে এ বোর্ড দাওয়াতে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের ডিগ্রি সনদ দিবে। এ আইন সমগ্র বাংলাদেশে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি, আর্দশ ও নিসাব (পাঠ্যসূচি) অনুসরণ করে পরিচালিত হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) বাণী ‘আমি ও আমার সাহাবীগণ যে মত পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত এর আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতাদর্শের অনুসরণ করে আম্বিয়া আলাইহিমুস মা’সুম (নিষ্পাপ) হওয়ার বিশ্বাস এবং সাহাবায়ে কিরামে নীতি অনুসরণ করবে। চার মাযহাবেব প্রতি শ্রদ্ধা ও পরমত সহিষ্ণুতার সঙ্গে হানাফী মাযহার অনুসরণ করবে, চার তরিকাসহ (চিশতিয়া সোহরাওয়ারদিয়া, নকশবিন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া ও কাদিরিয়া) সব হকপন্থী প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব পোষণ করবে। বোর্ড পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষা গবেষণা, প্রশিক্ষণ, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, মাদ্রাসা পরিচালনা ইত্যাদিতে বোর্ডের প্রভাবমুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, হেফাজত ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের দাবি ছিল শুধু দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি। মাদ্রাসার শিশু শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা আগের মতোই থাকবে। এগুলোর সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানের মতো সাধারণ বিষয় পড়ানো হবে না। মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের দায়িত্ব বিদ্যমান বোর্ডগুলোই করবে। মাদ্রাসা পরিচালানায় সরকারের ভূমিকা থাকতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত এসব দাবি মেনেই গত বছর স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন আইনে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সারা দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় অভিন্ন প্রশ্নপত্রে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হচ্ছে। গত বছর পরীক্ষা নিতে গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মাওলানা শামসুল হককে ‘নাযেমে ইমতেহান’ (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরীক্ষা উপকমিটি করা হয়।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ