স্কুলের দুই বন্ধুর বিবাদের জের ধরে আরেক বন্ধুর পিতা খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ আদালত চত্বরের জনৈক নাসিরের চায়ের দোকানে। নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম মনজের (৩৫) শহরের লক্ষিকোল গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে। মনজের নিহত হবার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, নিহত মনজের বিশ্বাসের ছেলে রিফাত বিশ্বাস ঝিনাইদহ পৌর মডেল স্কুল এন্ড কলেজে দশম শ্রেনীতে পড়ে। তার বন্ধু আবেিরর সঙ্গে সম্প্রতি ২০ টাকার নাস্তা খাওয়া নিয়ে মতৈনক্য ও বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিফাতকে মারধর করে ক্লাসের বন্ধু আবীর ও তার ভাই গয়াসপুর গ্রামের শাহ আলম এবং ইমরান।
গত ১৩ আগষ্ট দুপুরে রিফাতের পিতা মনজের বিশ্বাস তার ছেলেকে কেন মারধর করা হলো তা জানতে চেয়ে ফোন করেন শাহ আলমকে। এতে তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে ঝিনাইদহ আদালত চত্বরে জনৈক নাসিরের চায়ের দোকানে আসে এবং মনজের বিশ্বাসের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আসামী শাহ আলম ও তার দুই ভাই আবীর এবং ইমরান ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও ঘাড়ে আঘাত করে। এতে তার ঘাড়ের শিরা কেটে যায়।
মুমুর্ষ অবস্থায় মনজের বিশ্বাসকে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) মারা যান। মনজের বিশ্বাসের মৃত্যুর খবরে আসামীদের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১৬ আগষ্ট নিহত’র মা লক্ষিকোল গ্রামের আসমানী খাতুন বাদী হয়ে তিনজনের নামে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী গয়াসপুর গ্রামের আলী কদর ডাকাতের ছেলে শাহ আলম ও তার দুই ভাই আবীর এবং ইমরান গত ১৮ আগষ্ট সেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে শাহ আলম ব্যতিত অপর দুই ভাইকে আদালত জামিন দেন। বর্তমানে শাহ আলম জেল হাজতে আছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর মনজের বিশ্বাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মায়ের দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে।
You must be logged in to post a comment.