বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি ।।
যে ব্যক্তি অন্যের কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে সে প্রকৃত পক্ষে নিজের কল্যাণই নিশ্চিত করে। সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা পাওয়া যায়। সামাজিক সংগঠনগুলোতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক গুণাবলী তৈরি হয়। মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব-গুণ তৈরি হয়। দায়িত্বশীলতা বাড়ে, সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ে। প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের মৌলিক বিষয় একই। সামাজিক সংগঠনে সবার মতকে শ্রদ্ধা করা, সদস্য হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করা, নিজেকে বিকশিত করা, একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হওয়াসহ সহনশীল হওয়া শেখায়।
চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের মহামূল্যবান কথাগুলোকে সামনে রেখে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর মংলা উপজেলার মিঠাখালিতে মংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারস্ নামের একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।
মংলা এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৩ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছে। এ সংগঠনটি সামাজিক উন্নয়নে যেসব কাজ করে যাচ্ছে তা হলো-
চিকিৎসা সেবা : মোংলা স্টুডেন্ট ক্যাটারস্ এই এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায় ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা বিশেষ উপলক্ষে এ সংগঠনটি বিনামূল্যে মানুষের রক্ত পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য অর্থের যোগান দেয়াসহ বিনামূল্য ঔষুধ বিতরণ করে থাকে। অনেক সময় কোন রোগীর জরুরী অপারেশন করাতে রক্তের প্রয়োজন হলে এ সংগঠনের সদস্যরা রক্ত দিয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করে থাকে।
শীতবস্ত্র বিতরণ : প্রতিবছর শীত মৌসুমে মংলা এলাকার অসহায় অসচ্ছল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের কাজটিও করে থাকে মংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারস্। প্রতিবছর দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র নারী পুরুষকে শীতবস্ত্র দিয়ে আর্তমানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
শিক্ষা : মংলা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও দারুণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে মংলা স্টুডেন্ট ক্যাটারস্ পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবছর এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিএসসি,জেএসসি,ডেডিসি,এস.এসসি ও এইচ.এসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদানসহ অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে/কলেজে ভর্তিতে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে এ সংগঠন।
এ সংগঠনের প্রতিটি সদস্য নিজেরাই চাঁদা দিয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে থাকে।
যদিও এ সংগঠনটির কোন ডোনার বা তাদের সহযোগিতা করার মতো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই তবুও নিজেদের চেষ্টায় এ সংগঠনের ছেলেরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেদের নিয়োজিত রাখছে সবসময়। এ সংগঠনটি নিজস্ব উদ্যোগে মংলায় একটি পাঠাগার স্থাপন করেছে। সেখান থেকে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে বই নিয়ে পড়ে। এছাড়াও মংলা এলাকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নেও এ সংগঠনটির অবদান কোনো অংশে কম নয়।
খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলেমেয়েদের জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করে থাকে। বিশেষ দিনগুলোতে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের কাছে পুরস্কার দেয়া হয়।
এ সংগঠনের সদস্যদের আরো একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বিবাহ, সুন্নাতে খাৎনাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা অতিথি আপ্যায়নের কাজ করে এবং সেখান থেকে তাদের যে পারিশ্রামিক আসে সেই অর্থ তারা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে থাকে।
৫ জন উপদেষ্টা ও ৫০ জন সদস্য নিয়ে মংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারস্ পরিবার।
সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীরা হলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সুমেল সারাফাত, সাংস্কৃতিক কর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, সমাজকর্মী সোহাগ মিলন ও সাপ্তাহিক মেছেরশাহ্ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ আসাদুজ্জামান দুলাল।
সংগঠনের উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন-আজিজুর মোড়ল,আসাদুজ্জামান টিটো, স্ংবাদিক বায়জিদ হোসেন, হাবিব গাজি, রাসেল শেখ, জাহিদ আপন, কামরুল চৌধুরী, ফকির আব্দুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, মেহেদী হাসান বাবু, সবুজ পাভেল, জয়নাল আবেদিন, আবু হানিফ, আবু সাঈদ জয়, মাসুদ, এনামুল হক, শিমুল, আকাশ হোসেন মুকুল, রনি, ইস্রাফিল, ইসমাইল বাবু, শেখ রাফসান, আবু সাঈদ সানা, সুমন শেখ, আশিক খান, ইব্রাহিম, সাগর, সোহাগ, ডেভিড মেহেদী, কামরুল, সাদি, মেহেদী হাসান পরশ, আব্দুর রহিম, সাফায়েত, ফেরদৌস, রাজু, নাজমুল, আবু হুরায়রা, ওবাইদুল ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
সংগঠনের ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে মংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারসের সভাপতি আজিজ মোড়ল অন্যদৃষ্টি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যেতে চাই।…আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি আরো বলেন, মংলা উপজেলার মানুষের জন্য একটি উন্নত মানের হাসপাতাল ও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
অন্যদৃষ্টি/এলিস হক
You must be logged in to post a comment.