সবুজ হাসান।।
আজ লিখব আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পর্কে । স্থপতি মাইনুল হোসেনের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৭ মার্চ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে । তার বাবা সৈয়দ মুজিবুল হক যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন । নানা গোলাম মোস্তফা বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি ছিলেন ।
মাইনুল হোসেন ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন । স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়াও ১৯৭৬-১৯৯৮ সালের মধ্যে বেশ কিছু বড়ো স্থাপত্য কর্ম তৈরি করেছিলেন । এর মধ্যে আছে ঢাকার কাওরান বাজারের IRDP ভবন, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, চট্রগ্রাম ইপিজেড, ঢাকার অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল ইত্যাদি ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদের স্মরণে ১৯৭২সালের ১৬ ডিসেম্বরে সাভারে স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং নকশা আহ্বান করা হয় ১৯৭৮ সালে । মোট ৫৭টি নকশা থেকে সে সময়ের তরুণ স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেনের নকশাটি গৃহীত হয় । নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮৮ সালে ।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাতটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজাকৃতির স্তম্ভের সমন্বয়ে নির্মিত । এটি ১৫০ ফুট উঁচু । এই সাতটি স্তম্ভ বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত । পর্যায়গুলো হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ।
একটি তথ্য দিয়েই শেষ করছি তা হলো সৈয়দ মাইনুল হোসেন ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সুবর্ণা মোস্তফার ভাগ্নে।
You must be logged in to post a comment.