সবুজ আহমেদ।।
জীবন হলো অনেকগুলো পর্যায়ের সমন্বয়। স্কুল জীবন তার মধ্যে অন্যতম। এই সময়ে মানুষ তার জীবনের সুন্দরতম দিনগুলো অতিবাহিত করে। স্কুল জীবনে সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া যায়। যারা স্বার্থ ছাড়া বন্ধু হই।
আমার স্কুল জীবন শুরু হয়েছে ২০০৯ সালে। প্রথম স্কুলে যাওয়া। ব্রাক স্কুল থেকেই আমার হাতেখড়ি হয়।
তারপর ২০১০ সালে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। সেই দিনগুলো ছিলো অত্যান্ত স্মৃতিময়। সেই সময় লেখা-পড়া ছাড়া কোনো কিছু ভালো লাগতো না। প্রতিদিন স্কুলে পড়া প্রস্তুত করে যেতাম। শিক্ষকদের খুবই শ্রদ্ধা করতাম সাথে ভীষণ ভয় পেতাম। এভাবে ৫ টা বছর কেটে গেলো। সময়টা ২০১৪ সাল আমাকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিতে হবে। তারপর কিছুদিন পর স্কুল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টা শুরু করলাম।
সময়টা ২০১৫ সাল ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ভর্তি হলাম। নতুন পরিবেশ, নতুন শিক্ষক, সবই ছিলো চমৎকার। তবে হাই স্কুলে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান। যেমন- নবীন বরণ, স্বাধীনতা, একুশে ফেব্রুয়ারি, পিকনিক ইত্যাদি। নবীন বরনের সময় খুব ভালো লাগতো।
তখন ১৫-২০ দিন একটা করে ক্লাস হতো। সেই দিনগুলো ছিলো অসাধারণ। সময়ের সাথে সাথে বড় হতে লাগলাম। ২০১৬ সালে জীবনে একটা নতুন মোড় এলো। নিজের ভিতর আবেগ আসলো। এভাবে সপ্তম শ্রেনি, অষ্টম শ্রেণি শেষ করলাম।
২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে উঠলাম। কেন জানি মনে হয় নবম শ্রেণি কিছুদিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেলো। তারপর আমরা বিদ্যালয়ের বড় ভাই হলাম। মানে দশম শ্রেণিতে উঠলাম৷ নিজেকে একটু বড় বড় মনে হলো। যদিও সময়টা খুব ভালো ছিলো৷ আমরা ২০১৯ সালের শুরুতেই নবীন বরণ অনুষ্ঠান করলাম। ৩১ শে জানুয়ারী ২০১৯ সালে আমাদের অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠানের অনেক স্মৃতি আছে৷ যেগুলো অনেক দিন মনে থাকবে। দশম শ্রণির সব থেকে মজার ছিলো পিকনিক। আমরা গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়াতে পিকনিকে গিয়েছিলাম। পিকনিকের দিনটাই স্কুলের জীবনের সমস্ত স্মৃতির ভীতরের সেরা স্মৃতি। অনেক ভালো ছিলো দিনটা। সেদিন অনেকের সাথেই ফটো তুলেছিলাম। কিছু বান্ধবীর সাথেও ফটো তুলেছিলাম। আমরা পিকনিকে গিয়েছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯। সেদিন খুব উৎফুল্ল ছিলাম। খুব মিস করি দিনটা।
কিছুদিন পর আসলো টেস্ট(নির্বাচনী) পরীক্ষা। টেস্ট পরীক্ষার পর আস্তে আস্তে বন্ধু-বান্ধবীদের থেকে বিছিন্ন হয়ে গেলাম। ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারী দিনটা ছিলো আবেগময়। সেদিন আমাদের বিদায় ছিলো। আমরা বাজার গোপালপুন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে বিদায় নিলাম। সেদিন অনেকটাই বুঝতে পারলাম আমি শিক্ষকদের অনেক ভালোবাসি ও সম্মান করি। যদিও একটা স্যার বিপরীত মনে করতো। সেদিন সকল বন্ধু-বান্ধবীর থেকে বিদায় নিলাম। সম্মানিত শিক্ষকেরা অনুপ্রেরণামূলক কথা বার্তা আমাদের জন্য বললেন। ধন্যবাদ সকল শিক্ষক মহোদ্বয়কে।
এখানেই শেষ হলো আমার স্কুল জীবন। এখন রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।
লেখক
এস.এস.সি ফলপ্রার্থী (২০২০)
বাজার গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজ, ঝিনাইদহ সদর।
You must be logged in to post a comment.