সাধারণ মণি বনাম পরিমণি

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ন

বুদ্ধিমান ব্যক্তি এক পায়ে চলেন আর এক পা স্থির রাখেন। ছয়মাস চিকিৎসার পর এক ধনী মহিলা ডাক্তারকে বললেন, আপনার চিকিৎসার উপর আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। তাহলে প্রতি সপ্তাহে আপনি আমার কাছে আসেন কেন? আমার ফিসইবা দেন কেন? আমি আমার বিষয়ে অনেক কথা লোককে বলতে চাই। একমাত্র আপনিই আমার কথা ধৈর্য্য সহকারে শোনেন।

রাজধানীর কদমতলীর একটি বাসা থেকে এক দম্পতি ও তাদের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে, হাত-পা বেঁধে শ^াসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়। এমন পারিবারিক ও সামাজিক হত্যাকান্ড প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসে। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়,সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। এসব ঘটনা বলে দেয় মানুষের নৈতিক স্খলন, লোভ ও হিং¯্রতার ভয়াল রূপের কাছে টিকতে পারছে না সামাজিক কিংবা পারিবারিক বন্ধন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরা, অস্থিরতা ও পারিবারিক দ্ব›দ্ব-টানাপড়েনে আপনজনকে খুনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ, হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পারিবারিক বন্ধন ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে।  এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে।  সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই।  চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে তো বাড়ছেই।

গণতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন, মানবাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের উদ্দেশ্য  জনগণের কল্যাণ। তবে সব সময় সর্বক্ষেত্রে আইন ন্যায়বিচার ও নীতির উপর অটল থাকে না।  মানুষ নিজকে সভ্য করার চেষ্টা করেছে আদিকাল থেকে যা এখনও নিরন্তর। সময়ের ভাষাজ্ঞান,পরিসংখ্যান ও তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাদের দুরদর্শিতা ছিল না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সে যুগের মানুষকে বর্বর,অসভ্য ভাবা হতো। তবে তারা অমানবিক ছিল না। সামাজিক নীতিশাস্ত্র একটি ধারণা, যা ব্যক্তির নৈতিক আচরণ, বাস্তবতা এবং ব্যক্তিত্বের সংমিশ্রণের সাথে সম্পর্কিত।

মূল্যবোধের দীনতা এবং নৈতিকতার বিচ্যুতি সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনা  চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় পরিবার ও সমাজের দায়। আমাদের বিপরীতমুখী যাত্রার প্রবণতা ও বাসনা।

সমাজের সকলেই উচ্চাভিলাষী-চাকচিক্যময় জীবন উপভোগ করতে চায়। মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলো পারস্পরিক সুখ-দুখের সঙ্গী হয়ে সহযোগিতা সহানুভূতি ভালোবাসা প্রীতি আবেগকে পুঁজি করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা।

যে সমাজে সুদ ঘুষকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো,যে সব লোক এসবের সাথে সম্পৃক্ত ছিল সমাজের অন্যরা তাদের সাথে মেলামেশায় দূরত্ব বজায় রাখত, তারা গ্রামে অনেকটা এক ঘরে বসবাস করত। সময়ের পরিক্রমায় এসবের উৎস না খুঁজে অবলীলায় তাদের সাথে অভিযোজন ঘটিয়ে অজান্তেই সুদ ঘুষকে বৈধতা দিয়ে এসবের চর্চায় মগ্ন মানুষ। ইগো, দ্ব›দ্ব নানাভাবে জেঁকে বসেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহনে  সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতামতকে পায়ে পিষে নিজের দৈন্যতা এবং দাম্ভিকতার প্রভাবে কর্তাব্যক্তিদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

মানুষ  জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভ করে। এমন কি মৃত্যু অবধি ভুলকরে, শেখে। পারিবারিক আবহে শিশুরা যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সবক পায় তা পরবর্তী জীবনে চলার বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বপ্ন বাসনা এবং ব্যস্ততার সুযোগে আমরা পারস্পরিক ভালোবাসা,আন্তরিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছি।

মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুণেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এ তকমা এবং লকবটুকু আজ প্রশ্নবিদ্ধ। হেন অনিয়ম, স্বার্থপরতা এবং পাপাচার নেই যার সাথে মানবকূলের সম্পর্ক নেই। নৈতিকতার বিচ্যুতি, সামাজিক বন্ধনের শিথিলতা, রীতি নীতি নিয়ম প্রথার যথার্থ অনুশীলনের ঘাটতির সুবাদেই এসব হচ্ছে। পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, শাসন, পরিচর্যা, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার মাঝেই এ দৈন্যতার অবসানের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে। মুনাফেকি আচরণ, চাটুকারিতা, কারসাজি এবং দালালি প্রবণতা যেন আমাদের অস্থি- মজ্জায় বাসা বেঁধেছে, যার প্রভাবে সাদাকে সাদা বলার পরিবর্তে নানা রঙ্গে ভূষিত করছি। অবলীলায় দেখেও না দেখার ভানকরে  নিজেদের বিপদ  ডেকে আনছি।  শিক্ষক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক স্ব স্ব অবস্থানে থেকে সত্য বলতে পারছে না। বলতে চায় না। বলার সাহস পায় না। অনেকে ঝামেলা ভেবে এড়িয়ে যায়। ভয়ঙ্কর বিষয় হলো আইনের প্রতি বিশ^াস হারানো। এটি ঘটলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে থাকে। সমাজে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে।

মানুষের কাছে এখন চাহিদা পূরণই আসল বিষয়। কিভাবে পূরণ করা হলো সেটা মুখ্য বিষয় নয়। নৈতিকতা আর মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে মানুষ তার আকাঙ্খা পূরণে সামনে কোনো বাধা এলেই হত্যাকে বেছে নিচ্ছে সহজ পথ হিসেবে। ভোগবাদিতা,অধিক পাওয়ার আকাঙ্খা, সবকিছুতে তীব্র প্রতিযোগিতা,   অনিয়ম, অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, নৈতিকতা চর্চার অভাব,সমাজে ছড়িয়ে পড়া অন্যায়-অনাচারের কম বেশি শিকার সবশেণির মানুষ।

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান তার গাড়ির চালক দুই সঙ্গীসহ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদ্যরা প্রশাসনের দরজায় ধর্ণা দিয়ে  সহযোগিতা পায়নি। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কয়েক বছরে গুম, নিখোঁজ হওয়া কেউ কেউ জীবন নিয়ে ফিরে আসে পরিবারের কাছে, কেউ লাশ হয়ে। কারও আবার সন্ধান মেলেনি।

২০১০ সালের ২৫ জুন রাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের রমনা-শাহবাগ এলাকার সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলম নিখোঁজ হন। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকা থেকে গাড়ির চালক আনসারসহ নিখোঁজ হন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী। ২০১৩ সালে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা পাওয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি। পরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম কারাগারে বন্দি অবস্থায় সন্ধান মেলে। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। নিখোঁজের দুই মাস পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এ সন্ধান মেলে তার।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ কে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে হত্যা করা হয়।

২০২০ সালের ১০ মার্চ হাতিরপুলের নিজ পত্রিকা কার্যালয়ের সামনে থেকে নিখোঁজ হন ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।  ৫৩ দিন পর বেনাপোল সীমান্তের কাছে থেকে তাকে আটক করে বিজিবি। তবে শফিকুল ইসলাম কাজল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেনাপোলে ছেড়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত ৫৩ দিন আমার চোখ বাধা ছিল, মুখ আটকানো ছিল আর হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ।’ ২০১৭ সালের ৩ জুলাই ঢাকার শ্যামলীর আদাবরের নিজ বাড়ি থেকে ভোর পাঁচটার দিকে কলামিস্ট, লেখক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়। এর ১৮ ঘন্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে যশোরের অভয়নগরে একটি বাস থেকে উদ্ধার করে।

আবু ত্ব-হা আদনানের পরিবার থেকে বরাবরই বলে আসা হচ্ছে, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।  কেন তারা বারবার এমন কথা বলছেন? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। এর আগে ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া আটক নেতা রাশেদের মা ও স্ত্রীকে এই এমনই কথা বলতে শোনা গেছেÑ রাশেদ বা তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এমন কথা কী প্রমাণ করে, ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন বা দল করা অপরাধ?

পরীমণি বাংলাদেশের এই সময়কার জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী। তার উপর শারীরিক নির্যাতন হয়েছে; তাকে ধর্ষণ, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পরীমণির এই ঘটনায় সংবাদকর্মীরাসহ সমাজের তথাকথিত প্রগতিশীল ও নারীবাদীদের একটি বিরাট অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সবাই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন।  রাজধানীর গুলশানে ভাড়া বাসায় মারা যান কলেজছাত্রী মোসাররাত জাহান মুনিয়া। মুনিয়ার মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার বড় বোন নুসরাত জাহান বসুন্ধরা গ্রæপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে অনেক দেনদরবার করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।

মুনিয়ার ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে। আনভীর ইতোমধ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও দেশসেরা একটি ক্রীড়া সংগঠনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পুলিশের চোখে আনভীর পালাতক থাকলেও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নেতারা   ঠিকই তাকে খুঁজে বের করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মুনিয়ার মৃত্যুর পর দেশের সাংবাদিক,সংবাদমাধ্যম, প্রগতিশীল ও নারীবাদীদের ভেতর বিরাট পরিবর্তন দেখা গেল। এ ঘটনার পর তারা সুখনিদ্রায় চলে যান। মুনিয়াও যে পিতা-মাতাহারা একজন মুক্তিযোদ্ধার অসহায় অল্পবয়সী মেয়ে তা তারা কোনোভাবেই লেখায় আনতে পারেননি।   আনভীরে বাবার টাকা যেন সবাইকে স্মৃতিশক্তিহীন বানিয়ে ফেলে। আজ  দেখাযাচ্ছে অনেক নারীবাদীরা পরীমণির জন্য কত করুণা করে কলম ধরছেন, প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন। পরীমণির সঙ্গে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে, শতবার করতে হবে, হাজারবার করতে হবে।

টেলিভিশনের টকশোতে জনৈক নারী সাংবাদিককে নিয়ে মন্তব্য করেন দেশের একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও তত্ত¡াবধায়ক সরকারে  সাবেক উপদেষ্টা। এরপর দেশের প্রগতিশীল মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম হয়। মন্তব্যকারীকে জেলে যেতে হয়। গত বছর দেশে করোনার ভয়াবহতার সময় সাংবাদিক স্বামী প্লাবন কর্তৃক নির্মম নিগ্রহের শিকার হন দৈনিক সমকালের নারী সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুল। পারুলের পক্ষে তার প্রতিষ্ঠান দাঁড়ালেও পারুলকে নিজের বিচার পাওয়ার জন্য নিজেকেই সবকিছু করে অবশেষে থমকে যেতে হয়।

মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার এক নারীকে বর্বরভাবে ধর্ষণ করে তিন মদ্যপ। আমরা ক’জন ওই ধর্ষণের শিকার নারীর খবর রেখেছি, প্রতিবাদ করেছি? এতদিন জনসাধারণ জানতেনÑ দেশে ন্যায্য বিচার নেই। এখন যতটুকু ন্যায়বিচার হচ্ছে, সেটির মধ্যেও বৈষম্য ঢুকে গেছে। দেশের  হাজারো নির্যাতিতা,ধর্ষিতা আছেন- থানা-আদালত ঘুরতে ঘুরতেই বছরের পর বছর পার হয়ে যায়, কোথায় গেলে সুবিচার পাবেন, এটি জানতে জানতে মামলা খারিজ হয়ে যায়।

২০১৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে হজরত আলী নামের এক বাবা তার পালিতা শিশুকন্যা আয়েশাসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আয়েশা ধর্ষিত হয়, মামলা করতে গেলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। মুরারিচাঁদ কলেজের ধর্ষণকান্ড, ফেনীর নুসরাত হত্যা, সাব-রেজিস্ট্রারের ছেলে দিহানের লাগামহীন জীবন এবং কদমতলী ট্রাজেডি কিসের ইঙ্গিত বহন করে?  নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় স্বামীর সামনে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ১২ জুন পত্রিকার সংবাদে জানা যায়  ঘটনার ৯ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

একজন জনপ্রিয় নায়িকার সুবিচার পেতে বিলম্ব হচ্ছে না, কিন্তু সাধারণের বেলায় এমনটা কেন হয়? কত নির্যাতিত, ধর্ষিত  যে পরী না হওয়ার কারণে ন্যায়বিচার পান না- পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট।

নড়াইল থেকে পিরোজপুর, এরপর খোদ রাজধানীর রাজরাণী। সামসুন্নাহার স্মৃতির পরীমণি হয়ে ওঠার গল্পের রয়েছে হাজারও প্লট। এক জীবনে এত পাওয়া, আলোচনা সংসদে, টকশো,গানে,গল্পে,কবিতায়,সিনেমা-নাটক তো নিজের বাড়ি-ঘর। কোথায় নেই পরীমণি। তাই তিনি আশির্বাদ হয়ে উঠুন ভাগ্যবঞ্চিত সাধারণমণিদের ভাগ্যফেরাতে।

(এম এ কবীর,সভাপতি,ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি)।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ