সন্তান বনাম পিতা-মাতা এবং ইসলাম

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

তোফায়েল হাসান রুপক।।


 

আইনের আজীবন ছাত্র হিসেবে আইনের জ্ঞানে অনেক আগে থেকেই বহু কষ্টে bottom line এ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছি। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নের পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তিরোহিত হলে, আইন বিভাগের অনাহুত ছাত্র হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম।

তাই আইন বিষয়ে লিখতে খুব ভয় পাই। কারন আইন হল গরীবের সুন্দরী বউ এর মতো, সমালোচনা করতে সবারই ভালো লাগে। তাছাড়া বাঙ্গালী বধুর ভেজা শাড়ীতে সামনে শ্বশুর পিছনে ভাশুরের যুগপৎ অবস্থানের মত বিড়ম্বনা তো নিত্য স্বারথী হয়ে আছেই। আমার এ লেখাটার আকার দেখে বা শিরোনামে “ইসলাম” শব্দটা থাকার কারনে অনেকে তা skip করে যেতেই পারেন।

এতে আমার দু:খ পাবার কোন যুক্তিই নেই, কারন লেখাটা কারো share, like বা comments পাওয়ার জন্য নয়। তাছাড়া লেখাটা পড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। মূলত: নিজের ধর্মকে প্রথমে ভাল করে শেখার এবং তারপর সেগুলো মানার দুর্নিবার আকাঙ্খা থেকেই এই লেখার প্রয়াস পেয়েছি মাত্র। তবে ইসলামিক জ্ঞানের বিস্তর সীমাবদ্ধতার কারনে ভুল-ত্রুটির জন্য আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

পৃথিবী নামক গ্রহটাই সম্ভবত মনুষ্য প্রজাতিসহ আরো লক্ষ লক্ষ প্রজাতিকে এ যাবৎকাল তার গর্ভে ধারন করে আসছে। ‘সম্ভবত’ শব্দটা এ কারনে বলছি কারন সৌরমন্ডলের বাইরে গিয়ে আমরা সমগ্র মহাবিশ্বকে এখনো সবার সামনে খুব বেশী প্রকাশ করতে পারিনি। মানব সৃষ্টির গল্পটা ধর্মভেদে ভিন্ন। তবে মানব জাতির জন্মের আঁধার হিসাবে সব ধর্মেই মাতাকে প্রধান অবলম্বন হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারন মাতা সন্তানকে অতি কষ্টে নিজ গর্ভে ধারন করাসহ তার প্রতিপালনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নির্বাহ করে। পাশাপাশি আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষনে মানব শিশুর লিঙ্গ নির্ধারনে জন্য এককভাবে দায়ী চরিত্রের নাম পিতা। যদিও আদিযুগের অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী বা দার্শনিকরা (এ্যারিষ্টটল/প্লেটো সহ) মনে করতেন সন্তানের জন্মে পিতার কোন ভূমিকা নাই। কিন্ত ইসলাম অনেক আগে থেকেই মানব শিশু জন্মের নায়ক হিসাবে পিতার আরাধনা করে আসছে।

ইসলাম ধর্মমতে আদি পিতা আদম (আ:)-কে প্রথমে আল্লাহ তার নিজ হাতে তৈরী করেন। এরপর হযরত হওয়া (আ:)-কে আদম (আ:) জীবন্ত পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেন। এ কারনেই মূলত: পুরুষদের প্রতি নারীদের আনুগত্য ও পারস্পরিক আকর্ষন সৃষ্টি হয়েছে। অত:পর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার একত্ববাদের শিক্ষা দিয়ে আদম (আ:)-কে তার খলিফা হিসাবে মনোনীত করেন এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় পরবর্তীকালে তাদের পৃথিবীতে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনের কমবেশী ১০টা সুরার মধ্যে বিভিন্ন আয়াতে হযরত আদম (আ:) এবং হযরত হাওয়া (আ:)-দের সৃষ্টি ও তাদের জীবন ইতিহাসের বিবরন তুলে ধরেছেন। সুরাগুলো হলো যথাক্রমে-সূরা বাক্বারাহ (আয়াত: ৩১-৩৭); আল-ইমরান (আয়াত: ৩৩, ৫৯); মায়েদাহ (আয়াত: ২৭-৩২); আ‘রাফ (আয়াত ১১, ১৯, ২৬, ২৭, ৩১, ৩৫, ১৭২-৭৩); হিজর (আয়াত ২৬-৪২); ইসরা (আয়াত ৬১, ৭০); সাজদাহ(আয়াত ৭-৯); ইয়াসীন (আয়াত ৬০); সোয়াদ (আয়াত ৭৫-৭৮); ত্বোয়াহ (আয়াত ১১৫); ফাত্বির (আয়াত ৩৯) ইত্যাদি।

হজরত আদম (আ.)-এর নাম কেনো ‘আদম’ রাখা হলো এ ব্যাপারে আল্লামা ইমাম সা’লাবী (রহ.) বলেন, যেহেতু তাকে মাটি হতে সৃষ্টি করা হয়েছে আর হিব্রু ভাষায় মাটিকে বলা হয় “আদাম”।তাই তার নাম হলো আদম। কতিপয় ওলামায়ে কেরাম-এর সাথে একমত হয়ে বলেন, আদম (আ.)-এর দেহাবয়ব ‘খামীর’ তথা পানি ও মাটির সংমিশ্রণে তৈরি। তাই তার নাম হলো আদম। এভাবে হজরত হাওয়া (আ.) এর নাম ‘হাওয়া’ হলো এজন্য যে তিনি সকল জীবনধারী মানুষের মাতা। অর্থাৎ আরবী শব্দ “হাইয়ুন” যার অর্থ জীবন। আর এর আরবী রূপে মুবালাগাহ বা আধিক্য ব্যাঞ্জকরূপ হিসেবে ‘হাওয়া’ রাখা হয়েছে। (কাসাসুল কোরআন, প্রথম খ-, পৃষ্ঠা-২৬)

হযরত আদম (আ:) মহান আল্লাহর নিদেশ অমান্য করায় তাদের জান্নাত থেকে বহিষ্কার করা হয়। হযরত আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:)-দের জান্নাত থেকে বহিষ্কার করে পৃথিবীর কোথায় ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন বলা হয়েছে হযরত আদম (আ:)-কে স্বরনদ্বীপে শ্রীলংকা) ও হযরত হাওয়া (আ:)-কে জেদ্দায় (সঊদী আরব) নামিয়ে দেয়া হয়। কেউ বলেছেন, হযরত আদম (আ:)-কে মক্কার ছাফা পাহাড়ে এবং হযরত হাওয়া (আ:)-কে মারওয়া পাহাড়ে নামানো হয়েছিল। এছাড়া আরও বক্তব্য এসেছে। প্রথম আদম সন্তানের নাম ছিল ক্বাবীল এবং এরপর জন্ম নেয় হাবীল। বস্তুতপক্ষে হযরত হাওয়া (আ:) এর গর্ভ থেকেই মানব জাতির বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজকের যুগের সন্তানদের কাছে সবচেয়ে কম বোধসম্পন্ন শ্রেণীর মানব সন্তান হল তাদের পিতা-মাতা। আবার কতিপয় বিবেচনা তারা Unsmart ও বটে। যেন পৃথিবীতে তাদের সন্তান হিসাবে জন্ম দেয়া বাদে আর কোন ভাল কাজ তারা করেন নি। তবে বিত্তবান পিতা-মাতাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আজকাল বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের ভালবাসা বিশেষ দিবসের ফ্রেমে বন্দী হয়ে গেছে। হৃদয়ের দুর্বিনীত ভালবাসা যেন সে সব দিবসেই শুধু উদ্বেলিত হয়। আর প্রচার মাধ্যম জুড়ে সে সবদিনে বাবা-মা-কে নিয়ে কি সব বন্দনা ! কে কত আবেগী ভাষায় তাদের উপস্থাপন করতে পারবে তার প্রতিযোগীতায় মাঝে মাঝে Time-line lock হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার তাতে like ও comments এর ঝড় সংখ্যায় গননা করতেও নিয়ত ব্যস্ত থাকে ।

আমার এ অভিমতের সাথে সমাজের অধিকাংশ মানুষ দ্বি-মত পোষন করুক, আমিও তাই চাই। পিতা-মাতাকে ভালবাসার দিন সংখ্যায় কেন গননা হবে? বছরের বাকী দিবসগুলোতে কি পিতা-মাতাকে ভালো কম করে বাসতে হবে? তা যদি না হয়, তবে পৃথিবীজুড়ে কেন এসব দিবস বা এগুলো কার মাথার উর্বর মস্তিস্কের কল্পনা অথবা কেনই বা এত বৃদ্ধাশ্রম? সেই সন্তানই যখন বাবা অথবা মা ভূমিকায়, তার চরিত্রের আমুল পরিবর্তন। এখন সে তার সন্তানের জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল ফিতা বাঁধার জন্যও প্রস্তত। আমি এতক্ষন যা বললাম তার বিপরীত উদাহারনও আমাদের সমাজেই বিদ্যমান। এখন আত্মসমালোচনার মঞ্চে নিজেদের দাঁড় করিয়ে যদি প্রশ্ন করি এ যাবৎ বাবা-মায়ের জন্য আমরা কি কি করতে পেরেছি? তাদের কতগুলো আদেশ-নিষেধ মান্য করেছি? আশাকরি উত্তরের সংখ্যা বিবেচনা করে নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেবেন । আর আমাদের সবারই এ কথা মনে রাখতে হবে পিতা-মাতার যে কোন কর্মের বিচারভার আমাদের ধর্মে কোন সন্তানকেই দেওয়া হয়নি।

ইংরেজীতে একটা Quote আছে- Never forget two people in your life:
1. The person who lost everything just to make you win [Your Father];
2. The person who was with you in every pain [Your Mother]

এখন দেখি আমার ধর্ম ইসলামের বুনিয়াদ পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার সম্পর্কে কি বলা হয়েছে-

সুরা বনী-ইসরাইলের ২৩-২৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, “আর তোমার প্রতিপালক এ আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ভিন্ন অপর কারো ইবাদত করো না। আর মাতা-পিতার প্রতি উত্তম আচরণ কর। যদি তাঁদের একজন কিংবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাঁদের উদ্দেশ্যে কখনো ‘উহ’ পর্যন্ত বলবে না। তাদেরকে ধমক দিও না, বরং তাদের সঙ্গে মার্জিত ভাষায় কথা বল। আর তাদের উদ্দেশ্যে অনুগ্রহে বিনয়ের বাহু অবনমিত কর। আর বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়কে অনুগ্রহ কর, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছেন।”

আবার মাতা-পিতার হক সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ বলেন : “আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কোন বস্তুকে শরীক করো না এবং মাতা-পিতার প্রতি উত্তম আচরণ কর।” (নিসা: আয়াত ৩৬)।

সুরা লোকমানের ১৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতা সম্পর্কে আদেশ করেছি। তার মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভধারণ করেছেন। দুই বছর পর্যন্ত তাকে স্তন্য দান করেছেন। এ মর্মে যে, তোমরা আমার এবং তোমাদের মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।”

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) তার অসংখ্য হাদীসের মধ্যে মাতা পিতার হক ও তাদের প্রতি সন্তানদের কর্তব্য ও আচরন বিষয়ে বর্ণনা দিয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটা হাদিস তুলে ধরা হলো:

সবচেয়ে বেশী হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমার সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার কে? হুজুর (সা.) বললেন তোমার মা। লোকটি পুনরায় প্রশ্ন করল অতঃপর কে? হুজুর (সা.) বললেন তোমর মা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল অতঃপর কে? হুজুর (সা.) এবার জবাব দিলেন তোমার মা। লোকটি পুনঃজিজ্ঞেস করল অতঃপর কে? এবারে নবী করীম (সা.)জওয়াব দিলেন যে, তোমার বাবা। অত:পর নিকটতম আত্মীয়-স্বজন (বুখারী, মুসলিম)।

অন্য একটা হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল কি? তিনি বলেনঃ ওয়াক্তমত নামায পড়া। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ পিতা-মাতার সাথে সদাচার। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। (বুখারী, মুসলিম, দারেমী, তিরমিযী, নাসাঈ)।

আবার আবু বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মকগুলি সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবো না? কথাটি তিনি তিনবার বলেন। সাহাবাগণ বলেন, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ আল্লাহর সাথে শরীক করা (শিরক) এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ। তিনি হেলান দেয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি এ কথাটি বারবার বলছিলেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।

অপর এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি জিহাদে যাত্রার উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ যাও, তাদের মধ্যে (সেবাযত্নের) জিহাদে প্রবৃত্ত হও। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)।

এছাড়াও বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান এর ২৬৫ পৃষ্ঠায় বর্নিত হাদিসে আছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা:) বলেন, রাসুল (সা:) ঘোষনা করেছেন, যে নেককার ছেলে নিজ মাতা-পিতার প্রতি রহমত ও আন্তরিকতার দৃষ্টিতে একবার তাকাবে, আল্লাহতা’য়ালা প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে তার জন্য একটা মাবরুর হজ্জের( মকবুল হজ্জের) সওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন। সাহাবারা আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি ঐ ব্যক্তি দৈনন্দিন ১০০ বার তাকায়, তাহলে? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহতা’য়ালা সুমহান ও বড় করুনাময়।

সুতরাং কোরআন ও হাদিসের বিধান পিতা-মাতার বিষয়ে খুব স্পষ্ট। তাদের মাধ্যমেই অনেকটা আমাদের জান্নাত- জাহান্নাম আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন নির্বাচন করবেন। বলা হয়ে থাকে আমরা এখন মানব সভ্যতার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। পাশাপাশি “করোনা” নামক মহমারীতে আমাদের সবাই প্রান প্রায় ঔষ্ঠাগত। মহামারী ঠেকাতে বিশ্বের প্রত্যেক সরকারেরই ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। সরকারী নির্দেশনায় আমরা অধিকাংশই এখন নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছি। আমাদের অধিকাংশের ঘরেই কিন্ত এ মহামূল্যবান সম্পদ (পিতা-মাতা) আছে। যাদের নাই তাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন পবিত্র কোরআনের সুরা বনী-ইসরাইলের ২৪ নং আয়াতে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। আসুন না আমরা সবাই নিজ নিজ এ মহামূল্যবান সম্পদের (পিতা-মাতার) সেবা-যত্নের মাধ্যমে তাদের দোয়ায় নিজেকে সামিল করে নিজেদের গোনাহ মাফ করাই অথবা প্রয়াত পিতা-মাতার জন্য মহামহিমের দরবারে দোয়া করি। হতেও তো পারে এরই মধ্যে দিয়ে রহমানুর রহিম তার পৃথিবীতে সমগ্র মানবকূলকে আর একবার নতুন ভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিবেন।

———————————————————

লেখক

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জাজ

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ