মনিবুর রহমান।।
২০০২ সাল। জানুয়ারী মাস।প্রথম সপ্তাহ।প্রাইমারী স্কুলে ভর্তির পূর্ব মূহুর্তে মায়ের মুখ থেকে জীবনে প্রথম শুনতে পেলাম,,লেখা পড়া করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে,, স্কুলে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর শিক্ষকের মুখ থেকে শুনলাম,,শিক্ষা ছাড়া গতি নাই এসো সবাই পড়তে যায়।,, তার একবছর পর দ্বিতীয় শ্রেণীর দেওয়ালে লেখা দেখলাম,,জানলে শিশু লেখা পড়া তবেই হবে দেশ গড়া,,মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উঠার পর বাংলা বইয়ের পাতায় পাতায় দেখলাম,, শিক্ষায় শক্তি আনবে দেশের মুক্তি,,জ্ঞান শক্তি অর্জনই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য,,দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য,,ইংরেজি বইয়ে দেখলাম,, Education is the backbone of a nation,,””Education is the harmonious development of body soul and mind,, এতো কিছুর পরেও বুঝতে পারলাম না,শিক্ষা আসলে কী? এর আসল উদ্দেশ্য কী?শিক্ষিত মানুষের দায়িত্বইবা কী?
এবার আসি শিক্ষা কী? শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ Education যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ Educare থেকে যার অর্থ হলো কর্ষন করা,প্রতিপালন করা,পরিচর্যা করা,অন্তর্নিহিত চেতনার বিকাশ সাধন করা ইত্যাদি।
গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের ভাষায়,মিথ্যার অপনোদন এবং সত্যের আবিস্কারই হলো শিক্ষা।এরিষ্টটলের মতে,শিক্ষার্থীদের দেহমনের বিকাশ সাধন এবং জীবনের মাধুর্য্য ও সত্য উপলব্ধি করাই হলো শিক্ষা। ফ্রেডারিক এর মতে, শিক্ষা হচ্ছে মানুষের বহুমুখী প্রতিভার ও অনুরাগের সুষম প্রকাশ এবং নৈতিক চরিত্র গঠন।
সর্বপরি বুঝতে পারলাম,শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য তিনটি যথা:
১।মানবিক গুণাবলী অর্জন।
২।সামাজিক গুণাবলী অর্জন।
৩। নৈতিক গুণাবলী অর্জন।
আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক ও সামাজিক গুণাবলী আছে বটে।তবে সব ক্ষেত্রে নৈতিক গুণাবলী নেই। যার কারণে আমরা শিক্ষার উদ্দেশ্য বলতে বুঝি বড় চাকরি আর অনেক বেতন পাওয়া,সর্বপরি অর্থ উপার্জন করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাড়িয়েছে।
আজ আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভুলে যাচ্ছি আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।
আমরা শিক্ষিত হয়ে পিতা মাতাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি বৃদ্ধাশ্রমে,শিক্ষা গুরুকে করছি অপমান দেশ ওদশের সম্পত্তি আত্নসাত করে গড়ে তুলছি বিলাস বহুল বাড়ি গাড়ি,ঘুষ খেয়ে বিবেক বিক্রি করে অন্যায় পক্ষে অবস্থান করছি,আইনের চেয়ারে বসে অন্যায় বিচার করছি,ডাক্তার হয়ে রোগীর সেবার নামে করছি শোষণ,করছি মানুষ খুনের রাজনীতি,সর্বপরি স্রষ্টাকেও ভুলে যাচ্ছি।
এবার আসি নৈতিক গুণাবলীর শিক্ষা কী?
যে শিক্ষা গ্রহন করে আমরা সৎ,দক্ষ,ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারি,যা গ্রহন করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা সত্য,সুন্দর এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে পারি তাই হলো নৈতিক গুণাবলী সমপন্ন শিক্ষা।
যে শিক্ষা গ্রহন করে খলিফা ওমর,খালিদ বিন ওয়ালিদসহ অসংখ্য সাহাবী যারা বিকৃত জীবন থেকে ফিরে এসে সোনার মানুষে পরিণত হয়েছেন।যে শিক্ষা গ্রহণ করে সক্রেটিস প্রমাণ করলেন জীবনের চেয়ে জ্ঞান এবং বিদ্যা অনেক বড়।মুসলিম দার্শনিক ঈমাম গাযযালী জীবন দিলেন তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করলেন না।মিশরের সাইয়েদ কুবুব ফাসির দড়িতে ঝুললেন তবুও সত্য প্রচারে পিছ পা হলেন না।
সুরা আল ইমরানের ১১০ নং আয়াতের আলোকে প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের দায়িত্ব তিনটি যথা:
১।মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে।
২। সৎ কাজে উৎসাহ দিবে।
৩। অসৎ কাজ উৎখাত করবে।
যার কারণে ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন,উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে পন্ডিত হওয়া যায় বটে তবে তা হয় মুর্খ পন্ডিত। প্রকৃত পন্ডিত হতে হলে কোরআন তথা ধর্মীয় বা নৈতিক জ্ঞানের প্রয়োজন।
একটি দেশ,জাতি,সমাজ,সভ্যতা পরিচালনার জন্য মেধা ও জ্ঞানের দরকার তেমনি দরকার রয়েছে নীতি এবং আদর্শের। তাই আমাদের মহান শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ আপনারা আমাদেরকে সুশিক্ষা দিবেন।আমার ভাষায় বলি,
সুশিক্ষার জয়
কুশিক্ষার ক্ষয়
আমরা সুশিক্ষার মাধ্যমে
বড় হতে চাই।
সহায়ক গ্রন্থ:
১। পাশ্চাত্য দর্শেনর ইতিহাস।
২। মুসলীম দর্শনের ভূমিকা।
৩। ভাষা শিক্ষা ওব্যাকরণ।
৪। ইসলাম শিক্ষা একাদশ শ্রেণী।
You must be logged in to post a comment.