নিজস্ব সংবাদদাতা।।
ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের এম এস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ারের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপসহ ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে অন্য বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তার এই কেলেংকারির খবর জানাজানি হওয়ায় উপজেলার কোনো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিই তাকে নিতে চাচ্ছে না। আর এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের সকল সহকারী শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট (রবিবার) সকালে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ার একজন সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন। এ সময় বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়তে আসা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের চোখে ধরা পড়ে যান। বিষয়টি গত বুধবার বিকেলে ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরটি হাসিনা ওয়াহেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফয়জুন্নেছা ষড়যন্ত্র করে ছড়িয়ে দিয়েছেন অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ার। এতে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় প্রধান শিক্ষিকা লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ার নারী কেলেংকারীর ঘটনার দিনই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশক্রমে স্বেচ্ছায় মিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনটি প্রস্তাব আকারে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি জানার পর সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বাবলু মালিথা প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ারকে তার বিদ্যালয়ে যোগদান করতে দেবেন না বলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানান। সেই কারণে তার বদলি প্রস্তাবটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ফেরত এসেছে। বৃহস্পতিবার এমএস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ার বিদ্যালয়ের পঞ্ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় কক্ষেই সকালে প্রাইভেট পড়ান। একই সময় অপর সহকারী শিক্ষিকারও প্রাইভেট পড়ান।
ঘটনার দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে আসেন। এই সময় কেউ না থাকার সুযোগে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন তারা। বিষয়টি বিদ্যালয়ের সামনের দোকানদার, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা গিয়ে হাতে নাতে ধরে ফেলেন। সূত্রগুলো আরো জানায়, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এরপর বিদ্যালয় কক্ষে এই ধরণের ঘটনা ঘটানোর কারণে সবাই তাদের মেয়েদের নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ারকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রে শিকার। আমার বিরুদ্ধে হাসিনা ওয়াহেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফয়জুন্নেছা অপ্রচার ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আমি অন্যত্র বদলি হওয়ার চেষ্টা করছি। আপনি নিউজ করলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে করবেন। কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টি তিনি তদারকি করছেন।
হাসিনা ওয়াহেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফয়জুন্নেছা বলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ার নিজের নারী কেলেংকারী ঢাকার জন্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে আমাকে দোষারোপ করছেন। এই জন্য তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর বুধবার অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুল জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মৃণাল কান্তি সরকার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সরোয়ারকে মিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির প্রস্তাব করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিইও) নিকট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি তাকে যোগদান করতে দেবেন না বলে অভিযোগ করায় বদলির প্রস্তাব ফিরে এসেছে।
You must be logged in to post a comment.