কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু’জন।
আজ শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে নৃশংস এ ঘটনা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শতাধিক মানুষ দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে আগুন দেয়। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী পিটুনির শিকার হন। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শামীমের মৃত্যু হয়।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজনের জানান, ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীরের দরবার শরিফ’ নামে আখড়া চালাচ্ছিলেন ওই প্রবীণ। সম্প্রতি তার ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্যসহ কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ালে উত্তেজনা বাড়ে। জাহাঙ্গীর নিজস্ব মতবাদ প্রচার করতেন, ধর্মীয় অনেক আচার-আচরণ পালন করতেন নিজের রীতিতে। ধর্মীয় বিধান নিয়েও নানা সময়ে করতেন বিতর্কিত মন্তব্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বেলা ৩টার দিকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শামীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
হামলা ও গণপিটুনির তথ্য নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তৌহিদী জনতার বিশাল মব তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি।
You must be logged in to post a comment.