মোহাম্মদ ফজলুল হক।।
একটি দেশ, জাতী কতটুকু দেউলিয়াপনা হলে একজন দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসিন ব্যক্তির মুখ দিয়ে এমনতর বক্তব্যের অবতারণা হতে পারে তা আমার অন্ততপক্ষে বোধগম্য নয়।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডঃ নূরুল ইসলাম নাহিদ স্যার যখন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন তখন বিভিন্ন কাজে কর্মরত বেসরকারি শিক্ষক নেতা ও কর্তা ব্যক্তিদের যোগসাজশে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারী
দের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা সময় মত দিতে অপারগতার সমাধান হিসাবে বেশিক বেতন হতে ৬% কর্তন বাড়িয়ে ১০% করার ঘৃন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
যেখানে সাধারণ শিক্ষক কর্মচারীদের মতামতের বিন্দু মাত্র তওয়াক্কা করা হয়নি।
অতিরিক্ত ৪% কর্তন টেবিলের কিছু স্বনামধন্য স্বঘোষিত শিক্ষক নেতা নামে খ্যাত( সবাই বলে) ও সাম্প্রতিক সময়ের কর্তন সংক্রান্ত বিশেষ এক নেতা তার বিবৃতিতে বলেছেন ” অতিরিক্ত ৪% কর্তন সাপেক্ষে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অানা হয়েছে, এতে সকল শিক্ষক কর্মচারীর সম্মতি রয়েছে।” এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট কথা শিক্ষক শিরোমণি হিসাবে খ্যাত তিনি কখনই বলতে পারেন না। আমরা বেশিকসমাজ তার এই ধরনের কথাবার্তা, বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি ।
২০১৫ সালে জাতীয় পে-স্কেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীর জন্য ঘোষনা করলেও, কোন এক অদৃশ্য খেলায় তা বেশিকদের ভাগ্যের ছিঁকা ছিড়তে সময় লেগেছে প্রায় ১ বছর। অন্যান্য সুযোগসুবিধা যেমন- ৫% ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা তাও হাতে পেতে সময় নিয়েছেন প্রায় ৩ বছর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি থাকা সত্ত্বেও উপরোল্লিখিত সুযোগসুবিধা গুলির প্রত্যেকটি থলেতে ভরতে বেশিকদের কখনো আন্দোলন, অনসন বা মানবন্ধনের পথ বেছে নিতে হয়েছে। নিরস্কুশ বিনা বাক্য ব্যয়ে কোন কিছুই কর্তা ব্যক্তিরা হাতে তুলে দিতে পারেননি। তাই, এটা প্রমানিত সত্য, কোন স্বঘোষিত শিক্ষক নেতারা টেবিলে বসে কর্তাদের সাথে অালাপ- অালোচনার মাধ্যমে বেশিকদের এসব সুযোগসুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন তা সম্পুর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা কথা। তাই কোন শিক্ষক নেতাই অকপটে বলতে পারবেন না তাদের সুযোগসুবিধা করেছেন অতিরিক্ত ৪% কর্তনের শর্ত সাপেক্ষে।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে আরও বিস্মিত হয়েছি যিনার আগমনকে বেশিকগণ অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত দেখেছিলেন। আমরা প্রায় ধরেই নিয়েছিলাম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম সাহেবের অপরিকল্পিত কিছু সিদ্ধান্ত, নীতিমালা আমরা অন্ততঃ তিনার দ্বারা পরিত্রানের উপায় খুজে পাবো কিন্ত বিধি বাম, তিনিও গত কয়েক দিন আগে সম্ময় সভার মিটিং এ বলেছেন “শিক্ষকদের কল্যাণের জন্যই অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে।” সম্মানিত শিক্ষামন্ত্রী, আপনী কাদের কল্যাণের কথা বলছেন, যারা ঢাকা শহরের ৩৭ ডিগ্রী তাপমাত্রা উপেক্ষা করে গত ২৬ তারিখ হতে ৪% কর্তন ঠেকাতে প্রেসক্লাবের রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন? আপনীও যদি সেই বিগত মন্ত্রী ও শিক্ষক নেতা নামক দালালদের ঠান্ডা ঘরে বসে সিদ্ধান্তকে শিক্ষকদের কল্যাণের জন্য সিদ্ধান্ত বলেন –তাহলে এ দেশের ৫ লক্ষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকেদের কিছু বলার ও করার জায়গা অবশিষ্ট রইল না। আপনাকে পেয়ে বেশিকগণ যে অাশায় বুক বেঁধেছিল তা এক নিমিশেই শেষ হয়ে গেল।
যেখানে ঋণ খেলাপী, রিজার্ভ চুরি হওয়ার কারনে ব্যাংক গুলিকে দেউলিয়ার হাত হতে বাঁচানোর জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মাহিত সাহেব বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখেন , আর আপনার প্রাণ প্রিয় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক – কর্মচারীদের কল্যাণের টাকা সময় মত না দিতে পারার জন্য আমাদেরই বেতন কর্তন ( চাঁদা) করতে হবে? বিষয়টি কেমন যেন বেমানান দেখায় আপনার মন্ত্রনালয়ের জন্য। সবিশেষ বলতে চাই, বেশিকদের কল্যাণ তখনই হবে যখন তাদের চাকুরির শেষ সময়ে, সময় মত টাকা তাদের হাতে তুলে দিতে পারবেন, আমাদের টাকা কর্তন ব্যতিরেকে। আর তার জন্য সামনে জাতীয় বাজেটে এই খাতকে শক্তিশালী, স্বয়ংসম্পুর্ণ করার জন্য সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ ও এই খাতে অর্থের বরাদ্দ বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, আর এ ভাবেই বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষকগণের মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে। ধন্যবাদ।
লেখক
সহকারী অধ্যাপক
দৌলতপুর গার্লস কলেজ, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
You must be logged in to post a comment.