শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এর পায়তারা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯, ৩:০৫ অপরাহ্ন

বারেক ভূঁইয়া, শরীয়তপুর।।

শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলা মহিষার ইউনিয়নের ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের ২য় পর্যায় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্পের টাকা ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানের আত্মসাৎ এর পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তালিকা সূত্রে জানা যায়, মহিষার ইউনিয়নের মাটির রাস্তা নির্মাণ ও পুন:নির্মাণসহ সর্বমোট ৬ টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই ৬ টি প্রকল্পের সর্বমোট ২০২ জন অতিদরিদ্র শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পের বিধি মোতাবেক প্রতিজন শ্রমিকের মজুরি ২০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু মহিষার ইউনিয়নের ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কমে কোন শ্রমিক পাওয়া যায় না।

গত ১৯ মে রবিবার সরেজমিন ঘুরে ৬ টি প্রকল্পের মধ্যে ৪ টি প্রকল্পে মাত্র ২৬ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। প্রকল্পগুলো হলো ১ নং ওয়ার্ড উত্তর মহিষার আলী মৃধার বাড়ি পাকা সড়ক হইতে শংকর মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুন:নির্মাণ বরাদ্দ শ্রমিক সংখ্যা ৩৩ জন সেখানে কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। ৩ নং ওয়ার্ড মধ্য মহিষার মানিক দাসের জমি হইতে রতন ছৈয়ালের জমি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুন:নির্মাণ শ্রমিক বরাদ্দ সংখ্যা ৩৭ জন কাজ করতে দেখা যায় মাত্র ৫ জন। ৪ নং ওয়ার্ড মধ্য মহিষার সবুজ হাওলাদারের বাড়ি হতে বারেক সরদারের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুন:নির্মাণ শ্রমিক বরাদ্দ সংখ্যা ৩৩ জন কাজ করতে দেখা যায় মাত্র ৬ জন। ৫ নং ওয়ার্ড কুটি ঝুড়ি আতাই হাওলাদারের জমি হইতে কুটি ঝুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুন:নির্মাণ। শ্রমিক বরাদ্দ সংখ্যা ৩৩ জন। সেখানে কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি । প্রতিবেশীরা বলেন ১ সপ্তাহ যাবৎ কোন শ্রমিক এই প্রকল্পে কাজ করতে দেখা যায়নি। ৮ নং ওয়ার্ড ইসলামপুর গফুর ছৈয়ালের বাড়ি হইতে হাসেম বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তার নির্মাণ শ্রমিক বরাদ্দের সংখ্যা ৩৩ জন, কাজ করতে দেখা যায় মাত্র ৮ জন। ৯ নং ওয়ার্ড জাজিয়া সাড় কাবিল খার বাড়ি হইতে হারুন ছৈয়ালের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুন:নির্মাণ।

শ্রমিক বরাদ্দের সংখ্যা ৩৩ জন কাজ করতে দেখা যায় মাত্র ৭ জন। দুইশত টাকা হারে ২০২ জন শ্রমিকের প্রতিদিনের মজুরি ৪০,৪০০ টাকা, পাঁচশত টাকা হারে ২৬ জন শ্রমিকের মজুরি ১৩,০০০ টাকা। প্রতিদিন আত্মসাৎ হচ্ছে ২৭,৪০০ টাকা। ৪০ কার্যদিবসে আত্মসাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ১০,৯৬,০০০ টাকা। ভেদেরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, যদি কোন প্রকল্পে সভাপতি শ্রমিক কম খাটিয়ে প্রকল্পের কাজের বিঘ্ন ঘটায়।

তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহিষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান হাজী নুরুল ইসলাম শিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার কোন স্বাক্ষাত মিলেনি।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ