শরীয়তপুরের জাজিরায় ভূমি আছে গৃহ নেই, হাতিয়ে নিয়েছে প্রকল্পের মোট অংকের টাকা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের প্রায় চারশত গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে গৃহ দেওয়ার নাম করে ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহচরগণ মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাজিরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে সেনেরচর ইউনিয়নে ১৬০টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গৃহ প্রদান করা হয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক বিনামূল্যে গৃহ বিতরণের কথা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগতীয় ওয়ার্ড মেম্বারগণ ও তার সহচর ব্যক্তিরা প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা থেকে পঁনের হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। ঐ ইউনিয়নে বিনামূল্যে কোন গৃহহীন ব্যক্তিকে গৃহ প্রদান করা হয়নি।

সেনেরচর ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থান সরজমিন ঘুরে একাধিক হতদরিদ্র গৃহহীন ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন আমরা যারা ঘর পেয়েছি আমাদের কাছ থেকে আমাদের ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সহচর ব্যক্তিরা সরকারী ঘর পেতে দশ হাজার টাকা থেকে পঁনের হাজার টাকা জমা দেওয়া লাগবে বলে আমাদের প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। শুধু তাই না সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সহচর ব্যক্তিগণ দুইশত সত্তর থেকে প্রায় তিনশত পরিবারের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা থেকে পঁনের হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। যারা এখনো ঘর বা তাদের টাকা ফেরৎ পায়নি। ভুক্তভোগীরা আরও জানান মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সহচর ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হয়।

সেনেরচর ইউনিয়নের ভোলাই মুন্সীকান্দি গ্রামের সবুরজান বিবি (৬০) নামের এক বিধবা নারী জানান, আমাদের ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার খালেদা বেগম এর স্বামী সাবেক মেম্বার নুরুল হক সরদারের কাছে সুদের উপরে টাকা এনে ঘর পাওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছি। অদ্য পর্যন্ত  ঘর ও টাকা ফেরৎ পাইনি। ছাগলের বাচ্চা বিক্রি করে আসল টাকার সুদ পরিশোধ করতেছি। সবুজ জানের মতো অনেক ব্যক্তিরাই রয়েছেন যারা ঘর পাওয়ার জন্য ঋণ করে টাকা দিয়েছে। মহিলা মেম্বার খালেদা বেগমের স্বামী সাবেক মেম্বার নুরুল হক সরদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নে চারশত সতেরটি গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। আমার স্ত্রী অধিনস্থ ছয়টি ঘর দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ঘর প্রতি দশ হাজার টাকা করে নিয়েছে বলে, স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সেনেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন মোল্লার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গৃহহীনদের কাছ থেকে গৃহ দেওয়ার নাম করে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ বে-আইনি ও অনৈতিক মূলক কাজ। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ