রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাচারের হোতা আজিজিয়া ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মালিক কক্সবাজারের আতিক আটক

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:১৮ অপরাহ্ন

আবদুল মান্নান ।।

ভুয়া জন্মসনদের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের  মানব পাচার করছে- এমন একটি চক্রের হোতা আজিজিয়া ট্রাভেলিং ইন্টারন্যাশনালের মালিক আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১১- নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবোতে নাভানা টাওয়ারে তার বিলাসবহুল বাসায় অভিযান চালায়।এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাসপোর্ট, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ টাকাসহ তাকে আটক করা হয়।

অভিযানে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ও পূর্বাচলে দুটি প্লটের প্রমানসহ ইসলামি ব্যাংকে ৫০  লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ পত্র পাওয়া গেছে।  অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের  তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। এই এজেন্সির মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০টি পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে পাঠানো হতো।

এদিকে বাসাবোর অফিসে অভিযান শেষ করে রাতেই মতিঝিলে আতিকুরের মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে অভিযান চালানো হয়। রাত ৮টার দিকে অভিযান চলছিল।

র‌্যাব জানায়, অবৈধ উপায়ে আয় করা ৬০ লাখ ডলার অর্থ সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন- এমন তথ্য-প্রমাণ তার অফিসের নথিপত্র থেকে পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যাংকে ৪ লাখ ২৭ হাজার ডলার এবং সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে ৬০ হাজার ডলার রয়েছে তার নামে। দেশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে তার নামে ৭০ লাখ টাকা রয়েছে।গতকাল সোমবার আতিকের ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৭০ লাখ টাকা স্থানান্তরের তথ্য তার অফিস থেকে উদ্ধারকৃত নথি থেকে জানা যায়।

র‌্যাব-২ এর সিপিসি -৩ কমান্ডার মহি উদ্দিন ফারুকী    জানায়, ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ ও পার্সপোর্ট তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। ১১ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদরের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের পাশে তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব-২। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদ, জন্মনিবন্ধন তৈরির সিল, সনদের হার্ড ও সফট কপির হার্ডডিস্ক উদ্ধার করে।

আটক ব্যক্তিরা আতিকুর রহমান এ চক্রের মূলহোতা বলে জানায়। ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে তিনি এ ধরনের অপকর্ম ও বিদেশে  অর্থ পাচার করেছেন।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তার আজিজিয়া ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ও নাভানা টাওয়ারের বাসায়  অনুসন্ধান চালায় র‌্যাব। অনুসন্ধানে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়ার পর আতিককে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আতিকুর রহমানের বাড়ি কক্সবাজারে পোকখালি ইউনিয়নে। কক্সবাজারে তার এজেন্সির অনেক এজেন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করে। এসব এজেন্টের মাধ্যমেই বিদেশ যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের টার্গেট করা হতো। বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রথমে জন্মসনদ তৈরি করে পাসপোর্ট তৈরি করা হতো। সেই পাসপোর্ট দিয়েই বাংলাদেশি পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে পাঠানো হতো।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ