নাজমুল হুদা, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥
রামপালে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি না থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৌশলে দেশব্যাপী পলিথিন ব্যাগের বাণিজ্যিক ব্যবহার করেই যাচ্ছে। এতে আবারো পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা দেখার যেন কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ব্যবসায়ীরা খুলনাসহ বিভিন্ন মোকাম হতে পলিথিন ব্যাগ ক্রয় করে তা স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীর কাছে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক এ পণ্য সরবারহ ও বিক্রি করছে। সহজে বহনযোগ্য এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় সচেতন ব্যক্তিরাও এর ব্যবহার করছেন।
উপজেলার সদর বাজার, পেড়িখালী বাজার, গিলাতলা বাজার, ফয়লা বাজার, ভাগা বাজার, কালিগঞ্জ বাজার, গোনা বাজারসহ ছোট-বড় বিভিন্ন হাট-বাজারে খাবার দোকানে ও মুদি দোকানে এমনকি ফার্মেসীতেও এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০০২ সালের জানুয়ারীতে সরকারিভাবে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহান নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে ২৬৪টি পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে। যে গুলিতে মূলতঃ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্লাষ্টিকের বা পলিথিনের মাধ্যমে রপ্তানীমুখী বিভিন্ন তৈরি পোষাকের প্যাকেট, বিভিন্ন তৈরি খাবার ও প্যাকেট জাত হালকা খাবারের মোড়ক এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের প্যাকেট তৈরি করা হয়। এ সব কারখানার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে ‘পলিথিন সপিং ব্যাগ’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পলিথিন ব্যাগ অর্থে পলিথাইলিন, পলিপাইলিন উহার যৌগ বা মিশ্রণের তৈরি ব্যাগ, ঠোঙ্গা বা অন্য কোন ধারক যা কোন সামগ্রী ক্রয় বা কোন কিছু রাখার কাজে বা বহনের কাজে ব্যবহার করা যায়।
এ আইনের ৬ (ছয়) এর ‘ক’ ধারা অনুসারে উল্লেখিত পলিথিন সপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানী ও বাজার জাতকরণের দায়ে অনধিক ১০ (দশ) বছর কারাদন্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে।
এ ছাড়াও উল্লেখিত পলিথিন সপিং ব্যাগ বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন এবং ব্যাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দায়ে অনধিক ৬ (ছয়) মাস সশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদারের সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুব উদ্বিগ্ন কারণ ক্ষতিকারক এই ব্যাগের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। এটা বন্ধের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, অবস্থান কর্মসূচি, লিফলেট বিররণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। অচিরে এটা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার কুমার পালের সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন, বিএসটিআই এর প্রতিনিধিদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্ষতিকর এই পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। বিশেষ করে ফয়লা বাজারে অভিযান চালিয়ে পলিথিনের চালান জব্দসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদৃষ্টি/এলিস
You must be logged in to post a comment.