রামপাল(বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥
রামপালে ৫২’র ভাষা শহীদের স্মরণে ৪৫ বছর পূর্বে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনারটি রামপাল সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠের দক্ষিন-পশ্চিম কোনে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
ওই কলেজের দ্বায়িত্বে থাকা জিবির নেতৃবৃন্দগন এত বছরেও নতুন করে একটি শহীদ মিনার নির্মানে উদ্দোগ গ্রহন না করায় মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত ৪৫ বছরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে সু-দৃশ্য শহীদ মিনার নির্মিত হলেও কলেজের শহীদ মিনারটির সংস্কার বা পূণঃনির্মান করা হয়নি। এ বিষয়ে ১৯৭১ সালে ওই কলেজে যোগদানকারী সাবেক শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, তার যোগদানেরও ৩/৪ বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৩/১৯৭৪ সালে ওই শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়।
উপজেলার সকল সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ওই একটি মাত্রই শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তাবক অর্পন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে রামপাল দিঘীর পাড়ে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হলে কলেজের ওই মিনারটিতে আর পুষ্পস্তাবক অর্পন হয়নি। একই কথা বলেন, কলেজের সাবেক শিক্ষক কৃপাসিন্ধু বিশ্বাস। এ ব্যাপারে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মজনুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আমাদের বড় ব্যর্থতা যে উপজেলার অনেক জায়গায় সু-দৃশ্য শহীদ মিনার নির্মিত হলেও কলেজের শহীদ মিনারটি সংস্কার বা পূণঃনির্মান করা হয়নি। উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ জানান, ঐতিহ্যবাহী ডিগ্রী কলেজটিতে শহীদ মিনার সংস্কার বা পূণঃনির্মান না হওয়াটা দুঃখজনক, তিনি দ্রুত একটি শহীদ মিনার নির্মানের দাবি জানান।
কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ সাইদুর রহমান জানান, কলেজটি সম্প্রতি জাতীয়করণ করা হয়েছে। এখানে একটি সু-দৃশ্য শহীদ মিনার নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
You must be logged in to post a comment.