হোসনে আরা পারভীন।।
গত ২৬/২/১৯ ইং তারিখ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), UNICEF এবং a2i এর যৌথ আয়োজনে Adolescence period (১৫-১৯ বছর বয়সের) এর ঝরে পড়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার সফল সমাপ্তি হলো।
এদের জোগাড় করা যে এত কঠিন ভাবতে পারিনি। আসলে এরা বিভিন্ন কর্মের সাথে যুক্ত। তবে সেই কর্মটাও তাদের পছন্দের নয়।
ওদের সাথে মিশে জানলাম, বুঝলাম কেনো ওরা ঝরে গেলো: এই প্রোগ্রামের জন্য ওদের সকাল ৮ থেকে ৮.৩০টায় ভেন্যুতে উপস্থিত থাকতে বারবার বুঝিয়ে বলেছি। ৮টার সময় খোঁজ নিয়ে জানলাম ঘুম থেকে উঠেনি! বাড়ি বাড়ি গেলাম, অনেকের কাছেই উত্তর পেলাম, ‘এত্ত তাড়াতাড়ি যাওয়া লাইগবে ক্যান! সগকিছুই তো দেড়িত শুরু হয়…!’
৮.৪৫ এ NCTB, UNICEF এর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত হয়েছেন। ৯টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা, বারংবার তাগাদা দিয়েও ১০টার আগে তাদের উপস্থিত করতে পারিনি। খুব টেনশনে ছিলাম যদি না আসে তাহলে কি হবে? এডুকেশনাল টেকনোলজি এক্সপার্ট a2i এর রফিকুল ইসলাম সুজন স্যার আশ্বস্ত করে বলছিলেন, ‘সমস্যা নাই আপা আমরা ওদের কাছে চলে যাবো’।
আমার পর্যবেক্ষণ- ওরা সময় এবং ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদা দিতে শিখেনি। কোনো কিছুকেই তারা সিরিয়াসলি নিতে শিখেনি।
আলোচনা চলাকালীন তারা মুক্ত মনে স্বীকার করলো স্কুলে যেয়ে বইপত্র রেখে খেলতে চলে গেছে, অভিভাবকের চেষ্টা, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা কোনো কিছুই তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। সুজন স্যার এবং মিতু ম্যাডাম প্রশ্ন করেন, ‘খেলাধুলা দিয়েও তো সফল হওয়া যায় তোমরা কেনো পারলে না?’
এই প্রশ্নের বিচিত্র সব উত্তর আসলো, তারা জানালো তাদের খেলাগুলো কোনো কোয়ালিটির খেলা ছিলো না, খেলতো ডাংগুলি, মার্বেল, ঘুড়ি উড়ানো, তাস…। কেউ তাদের ইচ্ছাটাকে গুরুত্ব দিয়ে সঠিক নির্দেশনা দেয়নি। তবে এও বললো অভিভাবকের চেয়ে তাদের নিজেদের গাফেলতির জন্য পড়াশুনা হয়নি। ম্যাডাম জানতে চান স্কুলে পড়াশুনায় আনন্দ খুঁজে পেলে নিশ্চয় ঠিকভাবে পড়শুনা করতে? এ জন্য তাহলে স্যাররা দায়ি? ওরা জানায়- পড়াশুনায় তারা আনন্দ খোঁজার চেষ্টাও করেনি। তবে কর্ম ক্ষেত্রে এসে বুঝেছে পড়াশুনা না করে ভুল করেছে। তারা কাজ করার পাশাপাশি আবার ভর্তি হাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৫ জন মেয়ে ছিলো। তাদের ঝরে যাওয়ার কারণ অবশ্য অন্য। দারিদ্র্যতার কারণে বাবা মা লেখাপড়া বাদ দিয়ে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছে। পড়াশুনার ইচ্ছা থাকার পরও অভিভাবকের অসামর্থ্যতা, অসচেতনতা তাদের বাধ্য করেছে। দুইজনের সংসার করা হয়নি। ডিভোর্স হয়ে গেছে! সংসার সম্পর্কে অনভিজ্ঞ অল্প বয়সে বিয়ে তাদের জীবনে অভিশাপ ডেকে এনেছে। এখন বাসা বাড়িতে কাজ করছে। সুজোগ পেলে তারা আবার লেখাপড়া শুরু করতে চায়। তাদের চাহিদা থেকে বুঝলাম সার্টিফিকেট নির্ভর সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখি শিক্ষা তাদের জন্য অতীব জরুরী।
You must be logged in to post a comment.