যশোরের সাতমাইল পশুহাট নিয়ে বিপর্যায়, ইজারাদারেরা দেওলিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
যশোরের সাতমাইল পশুহাট নিয়ে বিপর্যায়, ইজারাদারেরা দেওলিয়া

মহামারি করোনা ভাইরাস জন্য দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম , যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহি বাগআঁচড়া  সাতমাইল,পশু হাটের ইজারাদার নাজমুল হাসানসহ ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখে পড়েছে।

করোনার কারনে ৪ মাস হাট বন্ধ থাকার পর আবারো হাট শুরু হলেও হাটে বাহিরের ব্যাপারী না আসায় এখনো ভালভাবে জমে উঠেনি পশুর হাটটি। ফলে প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নিয়ে ইজারদার নাজমুল হাসান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে।

সেই সাথে হাটের ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডাররা পথে বসতে চলেছে। সরে জমিনে যেয়ে জানাযায়, শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী বিশ্বাসের ছেলে নাজমুল হাসান প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ১ বছরের জন্য সাতমাইল পশু হাটটি ইজারা নেয়। ইজারা নেওয়ার পর কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় করোনা ভাইরাস। এসময় সরকারী নির্দেশে বন্ধ হয়ে যায় হাটটি। দীর্ঘ ৪ মাস পর আবারো সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু বেচাকেনা হচ্ছে শার্শার ঐতিয্যবাহী বাগআঁচড়া সাতমাইল এই পশু হাটটিতে।

তবে মহামারি করোনা ভাইরাসের জন্য বাহিরের ব্যাপারী না আসায় পশুহাটে বেচাকেনা খুব সিমিত আকারে হচ্ছে। যার ফলে প্রায় ৫ কোটি ইজারার টাকা থেকে মাত্র ২ কোটি টাকা উঠা ও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ইজারাদার নাজমুল হাসান দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। একই সাথে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডাররা।

সাতমাইল পশু হাটের ইজারদার নাজমুল হাসান জানান, পশু হাটটি ইজারা নেওয়ার পর থেকে করোনা শুরু হওয়ায় ৪ মাস হাট বন্ধ ছিল। আবার শুরু হলেও করোনার কারণে বাহিরের ব্যাপারী না আসাই বেচাকেনা নেই বললেই চলে। প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নেওয়া। ২ কোটি টাকাও উঠবে না। আমি এখন প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেছি। আমার মরণ ছাড়া মনেহয় আর  কোন উপায় নেই। সরকারের কাছে আবেদন করছি । সরকার দয়া করলে বেচে যাব। তাই আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এবিষয়ে বাগআঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, ঐতিয্যবাহী বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাটটির ইজারদারসহ ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডাররা করোনাভাইরাসের কারণে বাহিরের ব্যাপারীরা না আসাই ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় ৫ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া। অথচ বর্তমানে পশু হাটটির বেচাকেনা যে অবস্থা তাতে ২ কোটি টাকাও উঠবে না। তাহলে বাকি টাকা পাবে কোথায়।

বিধায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারের দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি। ইজারাদারসহ আমার এলাকার ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডাররা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে রক্ষা পাই আমি তার জন্য প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলক কুমার মণ্ডল বলেন, সাতমাইল পশু হাটের ইজারাদার আবেদন করেছে। আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সরকার যদি কোন সুবিধা দেয় সেটি তারা পাবে।

এদিকে এলাকাবাসী ইজারদার নাজমুল হাসানসহ ৩ হাজার সেয়ার হোল্ডাররা যাতে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে রক্ষা পাই সে জন্য প্রাধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ