জাকির হোসেন, (শার্শা), যশোর প্রতিনিধি ।।
যশোরের চৌগাছায় সাথী খাতুন (১৬) নামে এক নাবালিকা বধূকে যৌতুকের দাবিতে প্রেমিক স্বামী জিম্মি করে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সেখান থেকে উদ্ধার করতে গেলে ঐ নাবালিকার মা মমতাজ বেগমকেও মারধর করেছে। পরে চৌগাছা থানা পুলিশ গিয়ে জিম্মি হওয়া বধূকে উদ্ধার করার পর আহত সাথী খাতুনকে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে গত ৩০ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী সাথীর বাবা বজলুর রহমান ও মা মমতাজ বেগম। ভুক্তভোগী ও নির্যাতনকারী উভয়েই উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঐ নাবালিকা বধূর মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে স্থানীয় কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাথী খাতুনকে প্রেমের সূত্রে গত ৩ মাস আগে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে একই এলাকার কাউছার আলীর পুত্র নাজমুল।
সে সময় থেকেই নাজমুলের ঘনিষ্ঠ পুড়াপাড়া বাজারের চাতাল ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম আমার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখায়। এমনকি তারা আমাদের এলাকা ছেড়ে দেয়ার হুমকিও দেয়।
গত ২৫ নভেম্বর রবিবার দুপুর ১২টায় আমার মেয়েকে বদ্ধঘরে রেখে যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী নাজমুল বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে জামাইয়ের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেয়ে আমাকে এসএমএস করে ওরা আমাকে বদ্ধঘরে নির্যাতন করেছে। ‘তোমরা আমাকে উদ্ধার কর। না হলে আমি এখানে আত্মহত্যা করবো।’
এসএমএস পেয়ে আমি দ্রুত পুড়াপাড়া বাজারের রাস্তা পার হয়ে মেয়ের প্রেমিক জামাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় রাস্তার উপরই তারা আমাকে আটকে দেয়। আমি আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করলে তারা আমাকেও মারধর করে।
পরে চৌগাছা থানা পুলিশের এসআই বিকাশ কুমার ও এসআই কুদ্দুস গিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মেয়েকে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে একদিন একরাত রাখার পর বাড়িতে নিয়ে যাই।
তিনি আরো বলেন, ‘এরপর সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা বলে তারা সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। আমাদের হুমকি দেয় থানায় আমরা নতুন ওসির সাথে আগেই কথা বলেছি। তোমরা গেলেও মামলা নেবে না।’
তারা গত শুক্রবার চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মেয়েটির পিতা বজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েকে পুলিশ উদ্ধারের পর থেকেই নাজমুলের ঘনিষ্ঠ পুড়াপাড়া বাজারের চাতাল ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এমনকি আমাদের এলাকা ছেড়ে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। হুমকি দেয়ার কারণে আমরা এলাকা ছেড়ে চৌগাছা শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার কথা ভাবছি।’
এদিকে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, বিষয়টির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। মামলার আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। থানার উপ-পরিদর্শক বিকাশ কুমারকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি অন্যদৃষ্টিকে জানিয়েছেন।
এলিস হক/অন্যদৃষ্টি
You must be logged in to post a comment.