বিশেষ প্রতিবেদক।।
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুতে শোকের ছায়া সারাদেশে। ডাক্তারদের প্রাণপণ চেষ্টা, কোটি মানুষের প্রার্থনা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত জাহান রাফি মারা যান। পাষণ্ড মাদরাসা শিক্ষকের সমর্থকগোষ্ঠীর দেওয়া আগুনে ঝলসে তাকে মরতে হয়েছে বলে অভেযোগ উঠেছে।
নুসরাতের ময়নাতদন্তের সময় তার বোন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা তাসহিন। তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালের পোস্টে লিখেছেন হৃদয়বিদারক সেই মুহূর্তের বর্ণনা। জুমবাংলার পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ঢাকা মেডিকেলে। সকাল সাড়ে আটটায় হিমাগার থেকে বডিটা বের করে এমারজেন্সি মর্গে নিয়ে গেছে।
মৃত মানুষটা মেয়ে হলে তার ময়নাতদন্ত করার সময় মা অথবা বোনের থাকতে হয়। রাফির মা অসুস্থ আর আপন কোনো বোন না থাকায় আমাকে বোন হিসেবে রেখেছিলো ময়নাতদন্তের সময়।’
‘মেয়েটার পেটে কোনো মাংস নেই, মুখ দিয়ে লালা ঝরছে, যৌনাঙ্গ পুড়ে বীভৎস অবস্থা,পায়ের নখের লাল টুকটুকে মেহেদী রঙটুকু এখনো চোখে পড়ে।’
‘রাফির মা ভীষণ অসুস্থ গতকাল রাত থেকে , মেয়ে মারা যাওয়ার পর শেষবার একটু দেখতেও পারেননি। আঙ্কেল শোকে পাথর হয়ে গেছে আর মা মা বলে চিৎকার।’
‘ভাই দুইটা একটু পর পর অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। মর্গের সামনে দুই-তিনশো সাংবাদিক দাঁড়িয়ে আছে, নেই শুধু রাফি। কান্না থামিয়ে রাখতে পারেননি প্রধানমন্ত্রীর পিএস , মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যানও।’
‘এম্বুলেন্সে করেই এসেছিলো ঢাকায় আবার ফিরেও যাচ্ছে এম্বুলেন্সে। বোন, পৃথিবীর চেয়ে ভালো জায়গায় থাকবি নিশ্চয়ই। আমরা যেই নরকে আছি সেখানে এখনও তোর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে, তোর পক্ষে কথা না বলার জন্য আদেশ দিচ্ছে, তোর পাশের এলাকায়।’
‘গতকাল রাতে তোর মত করে আরেকটা ছেলের গায়ে আগুন দিয়েছে।’
‘আহ! কী সুন্দর! তুইই ভালো আছিস নরক থেকে চলে গিয়ে। শেষবার তোকে লাইফ সাপোর্টে দেখে আসলাম , গতকাল ব্ল্যাড ম্যানেজ করে দিলাম নয়ব্যাগ। আর যেতে হবে না তোকে দেখতে, রক্ত দিতে।’ ক্ষমা করিস না আমাদেরকে!
You must be logged in to post a comment.