মোঃ রনি শেখ, মোংলা।।
বৈশাখ মাস আগত তবুও বৃষ্টির দেখা নেই। দেড় লাখ টাকা খরচ করে চিংড়ি ঘেরের মাটি খনন করে একুশ হাজার রেণু পোনা ছেড়েছি। বৃষ্টি না হওয়ায় ঘেরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তপ্ত জলে জানিনা মাছ গুলো বাঁচবে কিনা ! বুধবার দুপুরে নিজের চিংড়ি ঘেরের পাড়ে বসে কান্না ভরা কণ্ঠে কথা গুলো বললেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই গ্রামের চিংড়ি চাষী আজমাল শেখ (৩৫)।
উপজেলার দত্তেরমেঠ গ্রামের সবজি চাষি রেজাউল দাড়িয়া (৪৫)। গ্রীষ্মকালিন সবজি হিসেবে ঘেরের পাড়ে ৫০০ ঝাড় (ছোপ) শসা ও করল্লার চাষ করেছেন। গাছ গুলো ঘুরিতে (মাচায়) উঠে গেছে। কিন্তু চারা লাগানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা নেই। তাই ফুল ও ফল ধরার পরও গাছ গুলো শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বৃষ্টির জন্য তার ক্ষেতে ও মাছের ঘেরে তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির। এমনকি বৃষ্টির অভাবে তপ্ত রোধে ঢলে যাওয়া শসা গাছও। শুধু আজমাল শেখ আর রেজাউল দাড়িয়া নয়।
প্রকৃতির খেয়ালীপনায় ভরা চৈত্রের শেষে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার চিংড়ি চাষী পড়েছেন বিপাকে । চারিদিকে বৃষ্টির পানির জন্য হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে। অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এ অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের চিংড়ি চাষে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসবে। মোংলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা আনুমানিক ১৬ হাজারের মত। যার মোট আয়তন ১৬ হাজার ৭৩৪ একর।
প্রাথমিক ধারনা মতে এরমধ্যে ১৩ হাজার ৭৫৮ টি ঘেরে গলদা ও ২ হাজার ২৫৭ টি ঘেরে বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। এখানের চাষিরা বছরে ২৩০ মেট্রিকটন বাগদা ও গলদা চিংড়ি এবং বিপুল পরিমান সাদা মাছ উৎপাদন করে থাকেন। দেশে মসৎ রফতানিতে রাখেন অগ্রনী ভুমিকা এই শিল্প।
এদিকে একাধীক ঘের মালিকেরা বলছেন মৎস সিজনের চার মাস পার হলেও দেখানেই পানির ফলে দুঃচিন্তায় দিন কাটছে আমাদের। কবে পানি আসবে তার কোন সঠিক সময় ও বলতে পারছিনা। এখন পানির অপেক্ষায় বসে আছি, পানি এলে বাগদা গলদার পোনা ছাড়তে পারি।
এদিকে মোংলার মৎস আড়ৎতের মালিকেরা বলছে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসে মহা অর্থনৈতিক মন্দ দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে একেবারেই মৎস রফতানি সুন্য কোঠায় নেমে এসেছে। এমন অবস্তা চলতে থাকলে এই সিজনে কঠিন হয়ে পড়বে মৎস রফতানি। ফলে মৎস্য চাষিরা হারাতে পারে মুলধন।
You must be logged in to post a comment.