মোংলায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে এসে কেন্দ্রীয় নেতা অংশ দিলো ভুড়িভোঁজে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট।।

বাগেরহাটের মোংলা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে এসে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জনরোষের শিকার হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ডু।

শনিবার জুলফিকার আলীর সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে জয়ন্ত কুমারকে পাঠায় দলীয় হাই কমান্ড। কিন্তু তদন্তকারী জয়ন্ত কুন্ডু তদন্তে এসে অভিযুক্ত বিএনপি’র স্থানীয় নেতা জুলফিকার আলীর সাথে লঞ্চযোগে প্রমোদ ভ্রমণসহ দুপুরে ভুরিভোজ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

তাদের অভিযোগ করে বলেন যার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতা তদন্ত করতে আসলো, সে কিভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে ঘুরে বেড়ায়। হাই কমান্ডের নির্দেশে জয়ন্ত কুন্ডু তদন্তে এসে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেননি। সে আসলেন, খেলেন আর ঘুরে বেড়ালেন। তিনি জুলফিকারের বিরুদ্ধে আর কি প্রতিবেদনই দিবেন? এবিসয়

মোংলা পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সাংগঠনিক তদন্তে এসে খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু তার সাথে কোন কথাই বলেননি।

পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ড আসার খবরে আমি তার কাছে গিয়ে দেখি, যার (জুলফিকার আলী) বিরুদ্ধে তদন্ত তাকে নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে লঞ্চে উঠছেন। এ সময় জয়ন্ত কুন্ডু স্থানীয় কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। তিনি আরো বলেন, তার (জয়ন্ত কুন্ডু) সাথে দেখা হলেও তিনি আমার কাছে সাংগঠনিক কোন বক্তব্য জানতে চাননি।

পৌর বিএনপি’র প্রচার সস্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ বাবলু ভূঁইয়া বলেন, বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু মোংলায় এসেই জুলফিকার আলীকে সাথে নিয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণে যায় এবং সেখানে তার সাথে  মধ্যন্যভোজে অংশ নেয়। আমরা তৃণমূল কর্মীরা ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় নেতার সাক্ষাৎ পাই। এরপর সে আমাদের কাছে কিছু জানতে চায়নি, আমরাই তাকে আগ বাড়িয়ে বলি, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জুলফিকারের সাথে তৃণমূলের কোন কর্মীরা নেই, সে কি সরকার দলীয় লোক নাকি বিরোধী দলের তার কর্মকান্ডে বুঝতে পারিনা!

থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ আবুল কাশেম ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদ রিয়াদও একই অভিযোগ করেন। তারাও বলেন, স্থানীয় কোন সিনিয়র নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে সাংগঠনিকভাবে কোন বক্তব্য নেননি বিএনপি’র তদন্তকারী নেতা বরং তিনি অভিযুক্ত জুলফিকারের সাথে সুন্দরবনে ঘুরে বেড়ানোয় আমরা সন্ধিহান তদন্তের ফলাফল কি হবে। এ ঘটনার আমরা কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ডু বলেন, তদন্তের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ। এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ভুড়িভোজের কোন প্রশ্ন আসে না। সুন্দরবন ভ্রমণের কোনো ব্যাপার না। প্রশাসনিক ঝামেলায় কোথাও বসতে পারছিলাম না। যে কারণে লঞ্চে বসে কথা বলেছি।

পৌর বিএনপি’র প্রচার সস্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ বাবলু ভূঁইয়াসহ নেতা-কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ওই নেতা বলেন, তারা আসলে তাদের লঞ্চে বসতে বলা হয়। কিন্তু তারা বসেনি। পরে থানা ও পৌর বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে তারা যেখানে বসতে বলেছে সেখানে বসে কথা বলেছি। তারা যা যা বলেছে তা শুনে চলে এসেছি। এখানে সুন্দরবন ভ্রমণের কোন বিষয় না। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে জুলফিকারের সাথে ছবি রয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের সাথে যে কোন স্থানে যাওয়া যায়। অভিযুক্তের সাথেও তো কথা বলতে হয়।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ