মোংলায় করোনায় অসহায় হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক মধ্যবিত্ত পরিবার

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

মোঃ রনি শেখ, মোংলা।।

করোনায় কর্মহীন তিন সহস্রাধিক শ্রমিক করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বে মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন-নির্গমনের সংখ্যা কমে গেছে।

ফলে এখানকার জাহাজ ও জেটিতে পণ্য ওঠানামার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিক-কর্মচারী কাজের অভাবে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সহায়তা দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন্দরের হারবার ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, কিছুদিন আগেও প্রতিদিন গড়ে ১৫-১৬টি জাহাজ অবস্থান করত বন্দরে। সেসঙ্গে বন্দর জেটিতেও কিছু পণ্য ওঠানামা করত। কিন্তু করোনার কারণে এ বন্দরে এখন গড়ে প্রতিদিন ১০-১১টি জাহাজ অবস্থান করছে। পাশাপাশি কমে গেছে বন্দর জেটির অভ্যন্তরের অনেক কাজ।

মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সাহাব উদ্দিন জানান, আইন অনুযায়ী জাহাজ ও জেটিতে পণ্য ওঠানামায় জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের মূল মালিক মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সুকৌশলে শ্রমিকদের মালিকানা ঠিকাদারের ওপর চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছেন।

শ্রমিকদের উন্নয়ন বাবদ বিভিন্ন খাত থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমকল্যাণ তহবিলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও করোনা প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে বন্দরের ক্যাজুয়াল এসব শ্রমিক-কর্মচারীর সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এছাড়া যেসব শ্রমিক বর্তমানে জাহাজ ও জেটিতে কাজ করছে, তাদেরও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাথমিক উপকরণ দেয়নি। ফলে শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়েই জাহাজে কাজ করছেন।

শুক্রবার সকালে মোংলা শহরের কয়েকটি শ্রমিক আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এরই মধ্যে তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। ত্রাণ ও সহায়তা যা পেয়েছেন, তা দিয়ে সামান্য কিছুদিন কোনোমতে চললেও বাকি দিনগুলোতে কীভাবে সংসার চালাবেন, ঘর ভাড়া দেবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারই এখন তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পারছে না। ঘরের বাইরে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় বিকল্প কাজও করতে পারছেন না। মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও স্টিভিডোরস কোম্পানি মেসার্স নূরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। অফিস স্টাফদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। তার পরও সাধ্যমতো শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষ নয়, তারা স্টিভিডোরসদের (ঠিকাদার) অধীনে কাজ করেন। ঠিকাদারই তাদের দেখভাল করে থাকেন। কাজের সময় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রাথমিক উপকরণ প্রদানের বিষয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা দুর্যোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহায়তা করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ