মানুষের মুখে শুনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি বিধবাদের ভাতা দেয়, আমিতো পাইলাম না: মাসুদা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:২৩ অপরাহ্ন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের, মধ্য মহিষার গ্রামের সহজ সরল ও সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র মাসুদা বেগম (৫৪) নামে এক বিধবা নারী বলেন, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি বিধবা নারীদেরকে বিধবা ভাতা দেয়। আমারতো ১২ বছর ধইরা স্বামী মারা গেছে। আমিতে বিধবা ভাতার কার্ড পাইলাম না।

একান্ত স্বাক্ষাৎকারে মাসুদা বেগম বলেন আজ থেকে প্রায় ১২ বছর পূর্বে আমার স্বামী মারা গেছে, মানুষের টাকা দিয়া আমার স্বামীকে মাটি দিয়েছি। আমার একটা ছেলে আছে ১২ বছর বয়স, সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ কইরা খাই। অসুস্থ হয়ে গেলে মাঝে মাঝে ভিক্ষাও করি, আমার স্বামীর রাইখা যাওয়া বসত বাড়ি ২০০৮ সালে ৭৭নং মধ্য মহিষার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির লোকেরা নিয়ে গেছে, আমাকে ৩০,০০০/- টাকা দেওয়ার কথা ছিলো।

আমার কাছ থেকে টিপ সই নিয়া আমারে মাত্র ২,০০০/- টাকা দিয়েছে। আমি মোস্তফা চৌধুরীর বাড়িতে থাকি। আমাগো ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী নুরুল ইসলাম শিকদারের কাছে বিধবা ভাতা ও চাউলের কার্ডের জন্য অনেক বার গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম হাজী আমারে কয়, বরিশালের মুলাদী যাও, বরিশাল মুলাদী কার্ড সস্তা পাওয়া যায়। আবার আমারে কয় তার বাড়িতে কাজ করতে ১,০০০/- টাকা বেতন দিব। মাসুদা বেগম আরও বলেন ঈদের সময় মনির মেম্বার আমারে চাউলের স্লীপ দেয় ১০ কেজি চাউল পাইছি। আমাগো গ্রামের অর্থ সালি ভালো মানুষেরা বিধবা ভাতা ও চাউলের কার্ড পায়। তাদের পোলাপাইন সৌদি আরব  ও ইটালি থাকে। চেয়ারম্যান ঐ সমস্থ লোকদেরকে বিধবা ভাতা ও চাউলের কার্ড দেয় আমারে দেয় না।

মহিষার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে, মাসুদা বেগমের বিধবা ভাতা ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, বর্তমানে স্বজন প্রীতি আর দুর্নীতিতে আক্রান্ত হয়েছে। আমি ২ বার বিধবা ভাতা কার্ড দেওয়ার জন্য মাসুদা বেগমের নাম তালিকাভুক্ত করে ছিলাম। চেয়াম্যান হাজী নুরুল ইসলাম শিকদার মাসুদা বেগমের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে, দিয়েছে। মনির মেম্বার আরও বলেন আমি ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছাব্বির আহমেদ, স্যারের মাধ্যমে মাসুদা বেগমকে ভিজিডি ও বিধবা ভাতা কার্ড দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।

মহিষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নুরুল ইসলাম শিকদারের কাছে মাসুদা বেগমের বিধবা ভাতা কার্ড ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হাজী নুরুল ইসলাম শিকদার বিষয়টি কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ