মাহবুবুর রহমান।।
মাদ্রাসা শিক্ষায় অবকাঠামো একটি বড় সমস্যা। যার যাঁতাকলে দেশের প্রায় ৮০% মাদ্রাসা জড়িত। এই অবকাঠামোগত দূর্বলতায় প্রতিষ্ঠাণগুলোকে পড়তে হচ্ছে নানা বিরম্বনায়। ছাত্র/ছাত্রী সংকট হচ্ছে, হচ্ছে ফলাফল বিপর্যয়। বহু মাদ্রাসা ফলাফলে শূন্য পাসের কাতারেও চলে এসেছে বহু প্রতিষ্ঠাণ। দূষারুপ করা হচ্ছে শিক্ষকদের। বলা হচ্ছে “লেখাপড়া হয়না ঐ মাদ্রাসায়” কথাটা আসলে কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখেননা কেউ। দেয়াহয় কারণ দর্শানোর নোটিশ, জবাব সন্তুুষ্ট হয়নি,তরিঘরি ঘোষণা আসে এমপিও বন্ধ। একবারও ভাবা হয়না এসকল প্রতিষ্ঠাণে কর্মরত শিক্ষক/কর্মচারীর কি হবে, কিভাবে চলবে ওদের সংসার?
বর্তমানে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক চিন্তাকরে তার সন্তানকে সুন্দর, চাকচিক্য, পরিবেশ ভাল এমন একটি প্রতিষ্ঠাণে লেখাপড়া করাবে। কারণ প্রতিষ্ঠাণের সুন্দর পরিবেশ ছাত্র/ছাত্রীদের মনে প্রভাব বিস্তার করে যা পড়ায় মনোযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া একজন শিক্ষার্থী বাড়ীতে মনোরম পরিবেশ ও তীব্র গরমে পাখার নিচে বসে পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠাণের ফুটো টিনের চালা ভাঙ্গা ক্লাসরুম, টিনের চালা ও ভাঙ্গা বেঞ্চে বসে তীব্র গরমে, সামান্য বৃষ্টিতে আধাভেজা হয়ে বসে পড়ালেখা করতে আগ্রহী হয়না। তাই ভর্তির সময় অভিভাবকদের নিকট গেলে বলে আপনাদেরতো ক্লাসরুমই নেই ছাত্র/ছাত্রী বসবে কোথায়? এমন ভাঙ্গা প্রতিষ্ঠাণে ওরা যেতে চায়না আমরা কি করবো? তাই অবকাঠামোগত অনুন্নয়নের কারণে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ছে বহু মাদ্রাসা। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে এই সকল প্রতিষ্ঠাণ। তাই মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাঁচাতে এখনি এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
মানুষ তেলের মাথায় তেল ঢালে। কোন ডোনার বা সরকারী ভাবে যদি ঐ ভাঙ্গা বা দূর্বল প্রতিষ্ঠাণটি কোন বিল্ডিং এর আবেদন জানায় তাহলে উত্তর আসে আপনাদের ওখানেত শিক্ষার্থীই নেই বিল্ডিং দিয়ে কি করবেন। কিন্তু এটা কেউ ভাবেওনা যে বিল্ডিং না থাকার কারণেই শিক্ষার্থী পাওয়া যায়না। যতদুষ সব শিক্ষকদের কাঁদে আসে। শিক্ষকদের দ্বারাকি সম্ভব এতবড় ব্যয় সম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ। আসলে কোন শিক্ষক কোন সময় চায়না আমার প্রতিষ্ঠাণে শিক্ষার্থী কম থাকুক। সবাই চায় শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ থাকুক নিজ প্রতিষ্ঠাণ। একটি প্রতিষ্ঠাণে যদি কোন ক্লাসে (ক) ও (খ) মিলে ১২০ জন শিক্ষারর্থী থাকে তবে তাদের মধ্যে অন্তত ৬০% ভাল থাকবে। এই ৬০% কে দেখে আরও ২০% ভাল এর কাতরে চলে আসবে। বাকি ২০% যদি শিক্ষকরা তাদের পিছনে অতিরিক্ত একটু শ্রমদেয় তবে ১০০% ভাল ফলাফল অবশ্যই আসবে।
তাই শিক্ষার্থী সংকট হতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাঁচাতে দেশের শিক্ষানুরাগী ও সরকার অতি দ্রুত অনুন্নত প্রতিষ্ঠাণগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়ার বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি এই অবকাঠামো নির্মাণ কোনমতেই শিক্ষকদের চাঁদা দিয়ে করা সম্ভব নয়। তারপরও শূন্য পাসে কোন প্রতিষ্ঠাণের এমপিও বন্ধ বা EIIN বাতিলের পূর্বে ঐ প্রতিষ্ঠাণের শিক্ষক, কর্মচারীকে অন্যত্র প্রতিষ্ঠাণে শূন্য পদে নিয়োগ বা বদলীর দাবী জানাচ্ছি। শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই হচ্ছে ফলাফল বিপর্যয়, শূন্য পাস এই বিষয়টি একবার হলেও ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।
-লেখক
সহকারি শিক্ষক, নরসিংদী।
You must be logged in to post a comment.