স্টাফ রির্পোটার।।
মাগুরার সদর উপজেলার রাঘোবদাইড় ইউনিয়নের সাংদা লক্ষীপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রী ৷ সে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোহাকলা দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী । এব্যাপারে মেয়েটির মা আন্না বেগম বাদী হয়ে মাগুরা আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ও ৩০ ধারা অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামী করা হয়েছে মৃত ছামেদ মোল্যার পুত্র ধর্ষক তফসের মোল্যা(৬৫), ধর্ষনের সহযোগী প্রতিবেশি পাতা মোল্যার কন্যা রিভা খাতুন ও স্ত্রী কমলা খাতুনকে।
পিতৃহীন ধর্ষিতা মেয়েটি হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী নানার বাড়ীতে বসবাস করে। প্রতিবন্ধী নানা দীর্ঘ দিন যাবত কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু পার্শবর্তী ঝিনেদাহ উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের তফসির মোল্যা (৬৫) টাকার লোভ দেখিয়ে চলতি সালের জানুয়ারী মাসের প্রথমদিকে অসহায় ঐ মেয়েটির বান্ধবির সাহার্যে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক বার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে সে প্রায় ৬ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়ে । মেয়েটির মা ও তার প্রতিবন্ধী নানা তফসের মোল্যার বাড়ীতে গিয়ে সব কিছু খুলে বলেন। পরে উভয় পরিবারের সম্মানের দিকে তাকিয়ে মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাবও দেয় তারা। কিন্তু তিনি ঘটনাটি সম্পূর্ন অস্বীকার করে বিবাহের প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়ে মেয়েটির পরিবারের লোক জনদেরকে খুন জখম সহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। এরপর গ্রামের মাতুব্বরদের কাছে কয়েকবার সালিশ ও বিচারের দাবী জানালে তারা কেউ প্রভাবশালী ধর্ষকের বিরূদ্ধে সালিশে হাজির হয়নি বলে মেয়েটির মা আন্না বেগম জানান।
এব্যাপারে অসহায় ঐ মেয়েটির সাথে কথা বললে সে জানান, একই গ্রামের পাতা মোল্যার কন্যা রিভা খাতুন আমাকে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায় এবং বলে যে একটি বই তোমাকে দেখানো দরকার। এই বলে তাদের বসবাসের পশ্চিম পোতার ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে খাটের উপর বসতে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ছিটকানী লাগিয়ে দেয়। তখন লম্পট তফসির মোল্যা ঘরের মধ্যে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলো। হঠাৎ করে সে আমাকে ঝাপটে ধরে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে সে আমাকে বলে যদি কোন লোকজনকে এই কথা বলিশ তাহলে তোকে সহ তোর পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফেলবো। আমি লজ্জায় ও ভয়ে এই কথা কাউকে বলতে পারিনি। মাদরাসা অনেক দিন বন্ধ থাকায় আমি বাড়ীতে ছিলাম। আমি এই কলংকিত জীবন নিয়ে কোথায় যাবো ভেবে পাচ্ছিনা। পরে আমার নানা ও নানিকে ঘটনাটি খুলে বলি। আমার মা আন্না বেগম ঢাকায় ছিলেন তাকে বাড়ীতে আসতে বলি। এরপর সব ঘটনা আমার মাকেও খুলে বলি। ঘটনার বিস্তারিত শুনে আমার মা ও নানা তফসের মোল্যার বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু তিনি আমার মা ও নানা নানিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ নানা ধরনের অপমান অপদস্ত করে তাড়িয়ে দেয়। পরে দিশেহারা হয়ে আমার মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা।একদিকে পেটেরসন্তানের স্বীকৃতি পাচ্ছিনা।
তার মা বলেন ,আমার মেয়ের যে এতো বড় সর্বনাশ করেছে তার কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। আল্লাহ তুমি তার বিচার করো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, তফসের মোল্যার ৬০থেকে ৬৫ বছর বয়স। ৪ সন্তানের পিতা ।এর আগেও এ ককম অসামাজিক কাজ করে খুটির জোরে বেচে যায় । ঘটনাটি ১০০% সত্যি। আমরা তার কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত তফসের মোল্যার বক্তব্য নিতে তার বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি ৷ ঘরের দরজায় তালা দেখে প্রতিবেশিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন’ পাশের গ্রামের একটি মেয়েলি সমস্যা নিয়ে তফসের মোল্যা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে ৷বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায় ধর্ষক তফছের কুমিল্লায় মেয়ে জামাই এর বাড়িতে আছে ।
You must be logged in to post a comment.