অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজা ব্র্রুনাই কিং। একটা আমের ওজন পাঁচ কেজি। মিষ্টতাতেও কম যায়না। ফলনও ভাল। আর কি চাই। কাজেই রাজা তো হবেই। ডালিউডের শাহরুখ খানের উপাধী কিং খান। আর ব্রুনাই কিং তার স্বকীয়তা গুণে নামের অংশ হিসাবেই কিং মানে ব্র্রুনাই কিং। এটা আমার মাগুরার গর্ব।
আতিয়ার নামে মাগুরারএকজন কৃষক ব্রুনাই থেকে জাতটি এনেছেন। আর হর্টিকালচার সেন্টার, মাগুরা এই স্বনামধন্য কিং আমের জাতটাকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি হাতে নিয়েছে। হর্টিকালচার সেন্টার, মাগুরা প্রগতিশীল কৃষক আতিয়ার ও সহযোগিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে তুলেছে। তাই আতিয়ারও তাঁর নার্সারীতে অনেক কলম তৈরি করছেন ও বিক্রয় করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আমার কাছে এ জাতটি পেতে চাইলে আমি আতিয়ার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেই। এ পর্যন্ত প্রায় দুইশত চারা আমি হর্টিকালচার হতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা দিয়েছি। আতিয়ার সাহেব ও অনেক চারা বিক্রি করেছেন। এভাবে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। কিছু সময়ের ব্যবধানে আমরা এ কাজটা করতে পারব ইনশাল্লাহ। কৃষিবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে ফল জগতের এ ক্যারিসম্যাটিক কিংকে আমরা সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিব। কিং এক জায়গা থাকবেনা। সর্বত্র থাকবে। কবিগুরু যথার্থই বলছেন,
‘আমরা সবাই রাজা, এই রাজার রাজত্বে,
নইলে মোরা রাজার সনে মিলব কি শর্তে।’
এ দৃষ্টিকোণে হর্টিকালচার সেন্টার, মাগুরাতে আমরা বেশী বেশী ব্রুনাই কিং এর মাতৃগাছ তৈরির চেষ্টা করছি। এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) জনাব সৈয়দ আহম্মদ স্যার, হর্টিকালচার সেন্টার মাগুরাতে একটি ব্রুনাই কিং আমের চারা রোপণ করলেন। এই গাছসহ অন্যান্য মাতৃগাছ থেকে আমরা প্রতি বছর সায়ন সংগ্রহ করতঃ চারা কলম তৈরি করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিব। আমাদের প্রতি মন্ত্রণালয় তথা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং এর এটাই নির্দেশনা। শ্রদ্ধাভাজন স্যার পুরা হর্টিকালচার সেন্টার ঘুরলেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেন। সারা বছর ব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ড্রাগন ফল বাগান ও মিশ্র ফল বাগান ( ভিয়েতনামী নারকেল ও থাই পেয়ারা-5 ) পরিদর্শন করলেন। সবকিছু মিলে স্যার সন্তোষ প্রকাশ করলেন। মনটা আনন্দে ভরে গেল। অনুপ্রাণিত হলাম। এসময় স্যারের সাথে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সফর সঙ্গী হিসাবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব একজন দক্ষ সম্প্রসারণবিদ জনাব মহাম্মদ মাইদুর রহমান স্যার, প্রকল্প পরিচালক, সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প, যশোর অঞ্চলের প্রণিধানযোগ্য কৃষি উন্নয়নের কান্ডারী, দক্ষ সম্প্রসারণবিদ জনাব চন্ডীদাস কুন্ডু স্যার ও কৃষি উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ উপপরিচালক জনাব পার্থ প্রতিম শাহ।
কিছুটা বাসনা অতৃপ্ত থেকে গেল। এর আগের বার হর্টিকালচারের দায়িত্বে থাকাকালীন উল্লেখিত প্রকল্পের আওতায় আমার নিজ হাতে কলম করা 130 টা বারি-4 আমের চারার একটা প্রদর্শনী রাউতাড়ার লিন্টু লস্করকে দিয়েছিলাম। কি যে চমৎকার সুন্দর আম ধরে আছে, না দেখলে বুঝা যাবেনা। দেখলে সবার মনপ্রাণ জুড়িয়ে যাবে এমন। কিন্তু শ্রদ্ধাভাজন স্যারের সময়ের অতি স্বল্পতার জন্য সেটা আর দেখানো গেলনা।
আরেকটা আকর্ষনীয় ব্যাপার। যেটা না বললে অত্যুক্তি হবে। সেটা হল যে, ভিয়েতনামী নারকেল অপি’তে প্রায় তিন বছরে কালাকালে মুচি এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ্। স্যার দেখলেন। আনন্দ প্রকাশ করলেন। বড় ভাল লাগল।
‘আমার দেশের গাছের আগায়
এমনি ধরে ফল,
মাখন রুটি ফুটিয়ে গোলাপ
বাটি ভরা জল’।
স্যার উপভোগ করলেন এ্যারাবিয়ান খেজুরের রোপন সারি যেটা বাংলাদেশের একজন অন্যতম হর্টিকালচারিস্ট জনাব মেহেদী মাসুদ, প্রকল্প পরিচালক, সারা বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প, স্যার তাঁর নিজ হাতে নয় মাস পুর্বে আমার হর্টিকালচারে লাগিয়ে দিয়ে ছিলেন। গাছগুলো বেশ প্রাণবন্ত হয়েছে। এটাও হর্টিকালচারের একটা নুতন মাত্রা।
‘তোরা দেখবি যদি আয়,
তোরা জানবি যদি আয়।
আরবের খোর্মা খেজুর হচ্ছে
আমার সোনার বাংলায়’।
স্যার এ্যাভোকেডো গাছ, মিষ্টি ডুমুর, আলু বোখারা, ডেফল ইত্যাদি মাতৃগাছ দেখলেন। পরামর্শ দিলেন। পরামর্শ দিলেন বড় বড় আম গাছের ডিটপিং করতে। আমের ব্যাগিং করতে। উপভোগসহ জ্ঞান অর্জন করলাম। ভাল লাগল। পাঠক, বলে রাখি, এই এ্যাভোকেডো গাছটা ইতোমধ্যে বেশ বড় হয়ে গেছে। ফল ধরেছে। এ গাছের চারাটা কয়েক বছর আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মাননীয় সচিব জনাব মন্জুর হোসেন স্যার হর্টিকালচার সেন্টারে রোপণ করেছিলেন। জানিনা স্যার অবসরে গেছেন কিনা। তবে মানব কল্যাণে তাঁর কর্মগাথা আছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, একই ভাবে জনাব সৈয়দ আহম্মদ স্যারের কর্মগাথা, উপদেশ, পরামর্শ ইত্যাদি আমাদের মাঝে কালের সাক্ষী হয়ে রবে। তাঁর পরামর্শেের বাস্তব প্রয়োগ করে হর্টিকালচার সেন্টার সার্থকভাবে সন্মুখপানে এগিয়ে যাবে। স্যারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। পরিশেষে আম নিয়ে আমার স্বরচিত কবিতাটি সকল বৃক্ষ প্রেমীদের করকমলে।
-ড. খান মোঃ মনিরুজ্জামান, তাজাখবর, হর্টিকালচার সেন্টার, মাগুরা, বাংলাদেশ।
You must be logged in to post a comment.